কানাডায় আবারও চাপে ভোক্তারা। বেড়েছে বিভিন্ন জিনিসপত্রের দাম; বিশেষ করে অস্থির জ্বালানি তেলের বাজার।
পরিসংখ্যান কানাডার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের আগস্টে কানাডায় ভোক্তা মূল্যসূচক সিপিআই এক বছর আগের তুলনায় বেড়েছে ৩ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের দাম বেড়েছে ২ দশমিক ৮ শতাংশ। পরিবহন খাতে মূল্যবৃদ্ধি হয়েছে আরও বেশি- সাড়ে সাত শতাংশ।
এক বছর আগের তুলনায় আগস্টে গ্যাসোলিনের দাম বেড়েছে ২২ দশমিক ৮ শতাংশ। জ্বালানির এই বাড়তি দাম শুধু গাড়িচালকের খরচই বাড়ায় না। পরিবহন থেকে শুরু করে পণ্য সরবরাহ— অর্থনীতির বিভিন্ন স্তরে এর প্রভাব পড়ে। সব মিলিয়ে যা বাড়তি চাপ তৈরি করেছে স্থানীয়দের পাশাপাশি বাংলাদেশিদের মধ্যে।
কানাডার ব্যবসায়ী এ কে আজাদ বলেন, ‘তেলের দাম বাড়ায় আমাদের গ্রোসারির যত আইটেম আছে, তার মধ্যে বিভিন্ন আইটেমের দাম বাড়ানো হয়েছে। এতে আমাদের মধ্যে যারা মধ্যবিত্ত পরিবারের আছেন, তাদের জন্য এটা খুব কষ্টদায়ক হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
আরও পড়ুন:
কানাডা প্রবাসী ওমর ফারুক বলেন, ‘গ্যাসের দাম বেশি, যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক— সব মিলিয়ে সাধারণ মানুষ ভুক্তভোগী হচ্ছে। গ্রোসারি থেকে শুরু করে খাবার— দিন দিন সবকিছুর দাম বাড়ছে।’
উদ্বেগের মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার শুল্ক যুদ্ধ। এক জরিপ অনুযায়ী, প্রায় ৩২ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মনে করছে— আগামী ১২ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের কানাডীয় পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক তাদের ব্যবসায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
উৎপাদন খাতে এই উদ্বেগ আরও বেশি। এই খাতের প্রায় অর্ধেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সম্ভাব্য নেতিবাচক প্রভাবের শঙ্কায়। শুল্কের বাড়তি খরচ এরই মধ্যে কিছু ব্যবসার ওপর প্রভাব ফেলেছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত এক বছরে প্রায় ২৮ শতাংশ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শুল্কজনিত বাড়তি খরচের অন্তত একটি অংশ ক্রেতাদের ওপর স্থানান্তর করেছে।
আগামী এক বছরে আরও ৩০ শতাংশ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান একই পথে যাওয়ার কথা জানিয়েছে। সব মিলিয়ে ভোক্তা চাপ বেড়েই চলেছে কানাডার বিভিন্ন প্রদেশে। অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে নেই আলোচনায় কোনো অগ্রগতি।





