আব্বাস আরাঘচি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সাত দিনের একটি পরিকল্পনা জমা দিয়েছিল এবং এর বিপরীতে ওয়াশিংটনের একটি জবাব পেয়েছে। আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরান এই বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত প্রতিক্রিয়া জানাবে। দুই দেশের মধ্যে চলমান যুদ্ধ অবসানের শান্তি আলোচনা গত কয়েক মাস ধরে স্থবির হয়ে রয়েছে।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের কাছে একটি প্রস্তাব পেশ করেছিল, যেখানে সুনির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ সাপেক্ষে সাত দিনের মধ্যে কৌশলগত হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত সেপ্টেম্বরে নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে আব্বাস আরাঘচি এই প্রস্তাবের রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন।
এদিকে মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ও এনবিসি নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগেই ইরানে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর কথা ভাবছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
এনবিসি নিউজের তথ্যমতে, গত সপ্তাহে মেরিল্যান্ডের ক্যাম্প ডেভিডে ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা দল ইরানের বিরুদ্ধে কৌশলগত পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছে। এরপরই সামরিক বাহিনী ট্রাম্পের বিবেচনার জন্য নতুন বিকল্প পরিকল্পনা তৈরি করে। অ্যাক্সিওস জানিয়েছে, পুনরায় সামরিক অভিযান শুরু হলে তা মূলত ইরানের জ্বালানি ও পরমাণু স্থাপনা এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে চালানো হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে এই যুদ্ধটি বেশ অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যুদ্ধকে কেন্দ্র করে দেশটিতে জীবনযাত্রার ব্যয় এবং জ্বালানি তেলের দাম ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে, যা মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। অবশ্য ট্রাম্প গত মাসে দাবি করেছিলেন, নির্বাচনের পর দুই দেশ একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে সক্ষম হবে এবং ইরান এখন নির্বাচনের ফলাফলের জন্য অপেক্ষা করছে।





