সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার!

এলপিজি সিলিন্ডার
এলপিজি সিলিন্ডার | ছবি: এখন টিভি
0

এলপিজি গ্যাসের সরকার নির্ধারিত দর কেবল কাগজেই রয়ে গেছে। কেননা সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে আলাদা মূল্য তালিকা দিয়েছে এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ী সমিতি। ভোক্তা পর্যায়ে অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত এ দাম মানছেন না ব্যবসায়ীরা, বিক্রি করছেন অতিরিক্ত দামে। ডিলাররা সরবরাহ ঘাটতির কথা বললেও, খুচরায় বেশি দাম দিলেই মিলছে পর্যাপ্ত সিলিন্ডার— এমন অভিযোগও তুলেছেন ভোক্তারা।

রাজধানীর শ্যামবাজার এলাকার চা দোকানদার মোহাম্মদ বাহাদুর। অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সঙ্গে চা বিক্রিই তার বড় ব্যবসা।

তিনি জানান, গেলো এক সপ্তাহ আগে গ্যাসের যে সিলিন্ডার ১ হাজার ৬০০ টাকায় কিনেছেন, এখন তা কিনতে হচ্ছে ২ হাজার ৩০০ টাকায়। আর তাতে বাড়ছে চা বানানোর খরচ। এই হিসাব সহজ হলেও, এলপিজি সিলিন্ডারে কেন বাড়তি ৫০০ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে, তিনি সে হিসাব কিছুতেই মেলাতে পারছেন না।

বাহাদুরের মতো রাজধানীর অধিকাংশ গ্রাহকেরই একই প্রশ্ন— কেন অতিরিক্ত দাম দিতে হচ্ছে তাদের?

এক ভোক্তা জানান, বিভিন্ন জায়গায় গ্যাসের সিলিন্ডার ২ হাজার ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। তিনি অনেক চেষ্টা করে কিছুটা কম দাম দিয়ে গ্যাস কিনতে পেরেছেন।

ভোক্তা পর্যায়ে অভিযোগ— কেউ ২ হাজার ২০০ টাকা রাখছে, আবার কেউ রাখছে ২ হাজার ৫০০ টাকা। ব্যবসায়ীরা প্রথমে গ্যাস নেই জানালেও পরে যখন ভোক্তারা দাম বাড়িয়ে ২ হাজার ৪০০ বা ৫০০ টাকা বলেন, তখনই গ্যাস দিতে রাজি হন।

আরও পড়ুন:

খুচরা দোকানদাররা বলছেন, ডিলার পয়েন্টে সরকার নির্ধারিত দামের থেকে কোম্পানিভেদে ২০০ থেকে আড়াইশো টাকা বেশি নেয়া হচ্ছে। তবে ক্রয় বিক্রয়ের রশিদ না থাকায়, এখানেও হিসেবের গড়মিলটা ধরা যায় না সহজে।

ব্যবসায়ীরা জানান, ২ হাজার ১০০ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকায় ডিলারদের কাছ থেকে সিলিন্ডার কিনতে হচ্ছে তাদের। সেক্ষেত্রে লেবার চার্জসহ ভোক্তা পর্যায়ে দাম কিছুটা বেশি রাখতে হচ্ছে তাদের।

এদিকে ডিলাররা বলছেন, কোম্পানিগুলো নিচ্ছে না গ্যাসের অর্ডার। তাই চাহিদার চার ভাগের এক ভাগ কখনো মিললেও বেশিরভাগই আনতে হচ্ছে সেকেন্ডারি সোর্স থেকে।

যদিও যাত্রাবাড়ীর একটি বড় ডিলার পয়েন্টে গেলে দেখা যায়, সারি সারি সিলিন্ডার। যদিও কর্মীরা বলছেন দুই মাস ধরে ডিলার পয়েন্টে সিলিন্ডার দিচ্ছে না কোম্পানিগুলো।

এদিকে, সরকার নির্ধারিত দামের বাইরে আলাদা মুল্য তালিকা দিয়েছে সিলিন্ডার ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা। তাতে দেখা যায়, সিলিন্ডারের দর ১৫০ থেকে ২০০ টাকা বেশি। তাদের দাবি, সরকারের দেয়া কমিশনে বিক্রি করতে পারছেন না তারা।

এমন পরিস্থিতিতে, সরকারের নিয়মিত মনিটরিংয়ের অভাবেই এমন সিন্ডিকেট হচ্ছে বলে মনে করছেন ভোক্তারা।

এসএইচ