দোনেৎস্ক আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ভাদিম ফিলাশকিন অভিযোগ করেন, সাধারণ মানুষের প্রাণহানি বাড়াতেই পরিকল্পিতভাবে যাত্রীবাহী বাস দুটিকে নিশানা করেছে রুশ বাহিনী। স্থানীয় কৌঁসুলিদের দপ্তর থেকে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, হামলার পর রাস্তায় বাস দুটির পোড়া ধাতব কাঠামো পড়ে রয়েছে এবং আশপাশে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে।
নিরাপত্তা পরিস্থিতির চরম অবনতি হওয়ায় ক্রামাতোরস্ক ও পার্শ্ববর্তী স্লোভিয়ানস্ক শহরে সব ধরনের গণপরিবহন চলাচল বন্ধের নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ফিলাশকিন দোনেৎস্ক অঞ্চলে থাকা বেসামরিক নাগরিকদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যাত্রী ও চালকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলার কোনো অধিকার আমাদের নেই।’
ক্রামাতোরস্ক সিটি কাউন্সিল এই হামলাকে বেসামরিক নাগরিকদের বিরুদ্ধে রুশ সেনাবাহিনীর ‘ভয়াবহ অপরাধ’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, হামলার শিকার স্থানে কোনো ধরনের সামরিক স্থাপনা ছিল না।
ইউক্রেনজুড়ে সম্প্রতি রাশিয়ার হামলা ও বেসামরিক হতাহতের সংখ্যা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টের মধ্যেই ইউক্রেনে যত বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন, তা ২০২৫ সালের মোট প্রাণহানির সংখ্যাকে ছাড়িয়ে গেছে। এর আগে বুধবার ভোরে কিয়েভের পূর্বাঞ্চলীয় প্রিলুকি শহরে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবনে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় পাঁচ শিশুসহ ২২ জন নিহত হন। নিহত শিশুদের তিনজনের বয়সই ছিল মাত্র এক বছর।
এদিকে রাজধানী কিয়েভেও লাগাতার বিমান হামলা চালাচ্ছে মস্কো। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিটসকো জানান, বৃহস্পতিবারের হামলায় অন্তত ৩ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছেন। হামলার ফলে বিদ্যুৎ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় শহরের একটি অংশে পানি সরবরাহে বিঘ্ন ঘটছে।
হামলায় হতাহতদের প্রতি শোক জানিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, দেশকে রক্ষার জন্য মিত্রদের নতুন সামরিক সহায়তার মাধ্যমে ‘বাস্তব পদক্ষেপ’ নিতে হবে। আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্রের সংকটের কারণে ইউক্রেনীয় বাহিনীর পক্ষে রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ডানাযুক্ত গ্লাইড বোমা ঠেকানো কঠিন হয়ে পড়ছে।
দোনেৎস্ক ও লুহানস্ক নিয়ে গঠিত দনবাসের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় মস্কো। লুহানস্কের প্রায় পুরোটাই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকলেও দোনেৎস্কের অবশিষ্ট ২০ শতাংশ এলাকা এখনো ইউক্রেনের হাতে রয়েছে। এই অঞ্চলের প্রতিরক্ষার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ক্রামাতোরস্ক লক্ষ্য করে নিয়মিত দূরপাল্লার হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী।





