একটি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান মারিকারমেনের ফ্ল্যাটটি কিনে নেয়ার পর বাড়িভাড়া এক ধাক্কায় ২৩০ শতাংশ বাড়িয়ে দেয়। বর্ধিত ভাড়া দিতে না পারায় তাকে উচ্ছেদ করা হয়। উচ্ছেদের সময় পুলিশের কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ এবং স্ট্রেচারে করে এই বৃদ্ধাকে বাড়ি থেকে বের করে নেয়ার দৃশ্য গণমাধ্যমে প্রকাশ পেলে স্পেনজুড়ে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এই ঘটনার পরপরই প্রায় ১০ হাজার মানুষ ক্ষোভ জানিয়ে মাদ্রিদের রাস্তায় নেমে আসেন। এক দশকে স্পেনে বাড়িভাড়া ৮০ শতাংশ এবং বাড়ি কেনার খরচ ৬৩ শতাংশ বৃদ্ধির প্রতিবাদে উত্তর থেকে দক্ষিণ—পুরো স্পেনের রাজপথ বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে ওঠে। অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি থাকা মারিকারমেন শয্যাশায়ী অবস্থাতেই এক ভিডিও বার্তায় আন্দোলনকারীদের সাহস জুগিয়ে বলেছিলেন, ‘আমি তোমাদের সবার সঙ্গে থাকতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আমার সেই সৌভাগ্য হয়নি। তাই এখান থেকেই সবাইকে সাহস নিয়ে লড়াই করার ও নিজেদের অধিকার রক্ষার আহ্বান জানাচ্ছি।’
বিক্ষোভের মুখে উচ্ছেদকারী প্রতিষ্ঠানটি মারিকারমেনকে ঘরে ফেরার প্রস্তাব দিলেও ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। ডানপন্থি ও কট্টর ডানপন্থি দলগুলো সরকারের আনা আবাসন বিষয়ক জরুরি ডিক্রি আটকে দিলে এই গণবিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শেষ পর্যন্ত আগাম সাধারণ নির্বাচনের ডাক দেন।
মাদ্রিদ টেন্যান্টস ইউনিয়ন জানিয়েছে, উচ্ছেদকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে একটি নতুন চুক্তিতে স্বাক্ষরের কয়েক ঘণ্টা আগে হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সংগঠনটি এক বিবৃতিতে জানায়, চরম যন্ত্রণাদায়ক পরিস্থিতির পর সম্পূর্ণ প্রতিরোধযোগ্য এই মৃত্যু ঘটল। মারিকারমেনের উচ্ছেদকে কেন্দ্র করে স্পেনে যে গণবিক্ষোভ, আগাম নির্বাচন ও সাধারণ ধর্মঘটের ডাক এসেছে, তা দেশটির ইতিহাসে একটি বড় বাঁক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।
প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ শোক জানিয়ে লিখেছেন, ‘যারা আজ এই ক্ষতিকে নিজেদের বলে অনুভব করছেন, তাদের সবার প্রতি সহমর্মিতা। শান্তিতে থাকুন।’ পোদেমোস দলের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য আইরিন মনতেরো তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘এটি মৃত্যু নয়; এটি একটি হত্যাকাণ্ড। লড়াইয়ের জন্য ধন্যবাদ মারিকারমেন।’ এ ছাড়া স্বাস্থ্যমন্ত্রী মনিকা গার্সিয়া ও বিরোধী দল পিপলস পার্টির নেতা আলবার্তো নুনিয়েজ ফেইহোও শোক প্রকাশ করেছেন।
মারিকারমেনের মৃত্যুর এক দিন আগে প্রধানমন্ত্রী সানচেজের মন্ত্রিসভা নতুন আবাসন ডিক্রি অনুমোদন করে। এতে দুর্বল ও ঝুঁকিপূর্ণ বাসিন্দাদের উচ্ছেদ থেকে সুরক্ষা দেয়া, মৌসুমী ভাড়ার ওপর কর বসানো এবং রিয়েল এস্টেট খাতে ফাটকাবাজি নিষিদ্ধ করাসহ ২১টি সুরক্ষামূলক পদক্ষেপ রাখা হয়েছে।
এদিকে মারিকারমেনের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে মাদ্রিদের প্রতিবাদ শিবিরে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে সেখান থেকে শত শত মানুষ পার্লামেন্টের উদ্দেশে মিছিল নিয়ে যান এবং তার স্মৃতি ধারণ করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।





