সিইসি’র পদত্যাগ ঘিরে শুক্রবার একটি ঘটনাবহুল দিনের সাক্ষী হলো ভারত। যার শুরু দিল্লির যন্তর-মন্তরে। পরে দিল্লি ছাপিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে সিজেপির ‘জেলে ভরো’ কর্মসূচিতে মানুষের ঢল নামে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্ক এলাকায়।
পুলিশের অনুমতির তোয়াক্কা না করেই বিভিন্ন প্রান্ত থেকে সিজেপি’র সমর্থকরা সমবেত হন আন্দোলনস্থলে। যোগ দেন নাসিরুদ্দীন শাহ, শাবানা আজমীসহ তারকা জগতের বেশ কয়েকজন ব্যক্তিত্ব। প্রতিবাদের মঞ্চে দাঁড়িয়ে জ্ঞানেশ কুমার অপেক্ষা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও অমিত শাহ’কে বেশি তুলোধুনো করেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সবসময় অধিকার ছিনিয়ে নেয়ার কথা বলে। সরকারের কাজ ছিনিয়ে নেয়া নয়, জনগণের অধিকার পূরণ করা। করোনার সময় ভ্যাকসিনের জন্য জনগণকে লাইনে দাঁড় করিয়েছিল; এখন এসআইরের নামে জনগণকে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে লাইনে দাঁড় করাচ্ছে।’
আরও পড়ুন:
এছাড়াও দীপকে অভিযোগ করেন, ধর্মে-ধর্মে বিভাজন সৃষ্টি করে জনগণের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে এনডিএ জোট।
অভিজিৎ দীপকে বলেন, ‘হিন্দু-মুসলিম বিভাজনের মাধ্যমে নাগরিকদের ভোটাধিকার ছিনিয়ে নিচ্ছে মোদি সরকার। সাফ বলতে চাই, আমাদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি করা যাবে না। ভারতীয়রা ঐক্যবদ্ধ। তাই বিভাজন রাজনীতি কায়েম করতে মোদিকে পাকিস্তান চলে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।’
মুম্বাইয়ের শান্তিপূর্ণ আন্দোলন শেষে এক এক্স বার্তায় জুলাইয়ের পর ফের দিল্লিতে আন্দোলনের ডাক দেন দীপকে। ১০ অক্টোবরের মধ্যে জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে যন্তর-মন্তরে নতুন আন্দোলনের ঘোষণা দেন তিনি। গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন উল্লেখ করে এতে ভারতের প্রত্যেক নাগরিককে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।
জুলাইয়ে সংসদ অভিমুখী পদযাত্রায় পুলিশি নির্যাতনের স্মৃতি মনে করিয়ে জানান, শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে প্রশাসন যেখানেই বাধা দেবে সেটিই একটি যন্তর-মন্তরে পরিণত হবে।
আরও পড়ুন:
জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ছাড়াও তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ, ২০২৫ সালের বিতর্কিত ভোটার তালিকা বাতিল ও নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ এর আন্দোলন বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছে সিজেপি। তবে মুম্বাইয়ের আন্দোলনে পুলিশ বাধা না দিলেও হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে একজন মারা গেছেন।
এদিকে শুক্রবার গান্ধী জয়ন্তীর দিন দিল্লি ও মুম্বাইয়ে সিইসিবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেয়াদের পক্ষ নেন কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী। এক্স বার্তায় যন্তর-মন্তরে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের ওপর পুলিশি ধড়পাড়কের নিন্দা জানান তিনি। দাবি করেন, নিপীড়ন চালিয়ে আন্দোলন দমানো গেলেও, মানুষের প্রশ্ন এড়াতে পারবে না প্রশাসন।
অন্যদিকে শুক্রবারের ব্যাপক ধড়পাকড়ের পর শনিবারও যন্তর-মন্তরে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের। নতুন দফা আন্দোলন রুখতে শুক্রবার সকাল থেকেই ব্যারিকেড ও বাড়তি নিরাপত্তার চাদরে ঢাকা যন্তর-মন্তরের আশপাশের এলাকা। এদিকে সাময়িক বন্ধের পর ফের সচল দিল্লির ১১টি মেট্রো স্টেশনের পরিষেবা।





