সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সমর্থকদের রাজধানীতে প্রবেশ ঠেকাতে, ১৪শ’ কিলোমিটার দূরে বন্দরনগরী করাচিতেই পথে পথে শিপিং কন্টেইনারের স্তূপ।
ইমরানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) নেতৃত্বে বিরোধীরা, ২০২৩ সাল থেকে কারারুদ্ধ দলনেতার মুক্তির দাবিতে দেশজুড়ে বিক্ষোভে নামবে রোববার। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সারা দেশ থেকে রাজধানী ইসলামাবাদের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করবে ইমরানসমর্থকরা। বিক্ষোভ ঠেকাতে যানবাহন বাজেয়াপ্ত করে কন্টেইনার ফেলে শহরে ঢোকা-বের হওয়ার পথে প্রায় এক মাস ধরে কড়াকড়ি দিয়ে রেখেছে প্রশাসন।
বিক্ষোভকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এখন পাঞ্জাবের দিকে যাওয়া মানে আত্মহত্যা করা। পুলিশ বিভিন্ন স্থানে গাড়ি থামিয়ে দিচ্ছে। আমরা কিছুই করতে পারছি না।’
অন্য একজন বলেন, ‘আমরা এখন এতটাই বিপর্যস্ত যে, কারও নিজের গাড়ি থাকলেও সে বরং তা চালানো বন্ধ করে বাড়িতে বসে থাকতেই পছন্দ করবে।’
আন্দোলনকারীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘রাস্তাঘাট বন্ধ। আমাদের দুর্দশার শেষ নেই। বাড়িতে ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা আমাদের অপেক্ষায় আছে, তাদের খাবার যোগানোর দায়িত্ব তো আমাদের। কিন্তু এখানে আয় কোথায়? শুধু অলসভাবে বসে আছি।’
শুধু সেপ্টেম্বরেই দুই হাজারের বেশি যানবাহন বাজেয়াপ্ত করার অভিযোগ পাঞ্জাব পুলিশের বিরুদ্ধে। বেশিরভাগই মালামাল বোঝাই করা এবং ক্ষতিপূরণ ছাড়াই দিনের পর দিন আটকে রাখা। এ অবস্থায় শুধু একেকটি কন্টেইনারের জন্য দৈনিক বিলম্ব ফি গুণতে হচ্ছে পাকিস্তানি মুদ্রায় গড়ে ৪০ হাজার রুপি পর্যন্ত। সময়মতো পণ্য সরবরাহে ব্যর্থতা এবং অলস পড়ে থাকা ট্রাকের কারণে ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ আরও বেশি।
আরও পড়ুন:
পাকিস্তানের করাচি পণ্য পরিবহণ সমিতির প্রেসিডেন্ট রানা মাহমুদ বলেন, ‘আমাদের সরকার বিক্ষোভের জায়গায় মালবাহী ট্রাক রাখার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এটি বিশ্বের কোথাও গ্রহণযোগ্য নয়, এমনকি পাকিস্তানেও তা মেনে নেয়া হচ্ছে না। এভাবে কোনো বিক্ষোভ থামানো যায় না।’
সরকারবিরোধীদের বিক্ষোভ দমনে লকডাউন চলছে ইসলামাবাদে, থমথমে পরিস্থিতি পুরো রাজধানী নগরীতে। দেড় হাজারের বেশি শিপিং কন্টেইনার ফেলে মাসখানেক ধরে বন্ধ রাজধানীর সব প্রবেশপথ। মোতায়েন রয়েছে ২২ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য।
বিক্ষোভ সামনে রেখে, পাকিস্তানে সরকার ও বিরোধীদের শুক্রবারের প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয় কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই। তবে দ্বিতীয় দফায় শনিবার ফের আলোচনায় বসতে রাজি হয়েছে দু’পক্ষই।
পাকিস্তান পরিসংখ্যান ব্যুরোর সবশেষ তথ্য, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর সেপ্টেম্বরে দেশটিকে ভোক্তা মূল্য ১০ শতাংশের বেশি পরিবহন মূল্য সূচক ২৭ শতাংশের বেশি বেড়েছে। ভঙ্গুর অর্থনীতির দেশটিতে সরকারের ওপর চাপ আরও বাড়াতে বিক্ষোভ পদযাত্রার তারিখ ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে এক সপ্তাহ পিছিয়ে ৪ অক্টোবর নির্ধারণ করা হয়। এতে ইসলামাবাদের নিরাপত্তা বাবদ খরচ বেড়ে যায় দ্বিগুণের বেশি। শুধু এক হাজার ৫৫০টি শিপিং কন্টেইনারের জন্য দিনে গুণতে হচ্ছে চার কোটি ৬৫ লাখ রুপি।
বিশ্লেষকদের মতে, এই বিক্ষোভের ফলে বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে সেনাসমর্থিত শেহবাজ শরীফের সরকার। সামনের দিনগুলোতে আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠতে পারে পরিস্থিতি। সরকার ও সেনাবাহিনীর ব্যাপক চেষ্টার পরও পাকিস্তানের রাজনীতিতে অনেকের কাছেই বর্তমান সরকারের রাজনৈতিক বিকল্প ইমরান খান।




