আন্তর্জাতিক নৌ চলাচলে হুথিদের আধিপত্য খর্ব করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে রিয়াদ। গত মাসে হুথিরা দ্রুত অগ্রসর হয়ে কৌশলগত বাব-এল-মান্দেব প্রণালির দখল নেয়। এর নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করতে সৌদি আরব দুটি বিকল্প নিয়ে ভাবছে। হয় কেবল প্রণালি সংলগ্ন এলাকায় সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হবে, নয়তো আল-বায়দা, মারিব, তায়েজ ও আল-জাওফসহ একাধিক ফ্রন্টে সমন্বিত আক্রমণ চালানো হবে। স্থলভাগে ইয়েমেনি যোদ্ধারা লড়াইয়ের নেতৃত্ব দেবে আর আকাশপথে সহায়তা দেবে সৌদি বিমানবাহিনী। নভেম্বরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে বা পরে এ অভিযান শুরু হতে পারে।
এই বিশাল অভিযানে সরাসরি অংশ নিতে রিয়াদের মিত্ররা সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সরাসরি বিমান হামলার মতো সামরিক পদক্ষেপের অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণে গোয়েন্দা তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে। অন্যদিকে সৌদির সঙ্গে যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির আওতায় তুরস্ক ও পাকিস্তান সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। পাকিস্তান ইতিমধ্যে ইয়েমেন সরকারের সদর দপ্তর এডেনে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও ড্রোন পাঠিয়েছে। এছাড়া সৌদির নিজস্ব ভূখণ্ড ও তেল স্থাপনা রক্ষায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। ইয়ানবু বন্দর রক্ষায় সেনা পাঠাচ্ছে ফ্রান্সও।
তবে এই সামরিক প্রস্তুতির মধ্যেও বড় শঙ্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইয়েমেনি বাহিনীর অভ্যন্তরীণ কোন্দল। অতীতে সৌদি ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রশিক্ষণ পাওয়া এই স্থানীয় বাহিনীগুলো একাধিকবার নিজেদের মধ্যে সংঘাতে জড়িয়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, সুশৃঙ্খল হুথি বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মতো ঐক্য ও প্রস্তুতি এই সরকারবিরোধী গোষ্ঠীগুলোর নেই। ফলে রিয়াদের এই অভিযানের চূড়ান্ত সাফল্য নির্ভর করছে স্থানীয় স্থলবাহিনীর পারফরম্যান্সের ওপর। সৌদি আরবে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনি বলেন, ‘উপকূলীয় অঞ্চল পুনর্দখল এবং স্বাভাবিক নৌ চলাচল ফেরানোর লক্ষ্যে এটি তুলনামূলক সীমিত একটি অভিযান হতে পারে।’





