যুক্তরাজ্যে বিমানঘাঁটিতে নাশকতার ছক, ইরানি যোগসাজশের দাবি কতটুকু সত্য?

0

যুক্তরাজ্যের গ্লসস্টারশায়ারের আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে নাশকতার চক্রান্তে জড়িত সন্দেহে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ নিয়ে এই ঘটনায় মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করলো দেশটির পুলিশ। আগের পাঁচজনকে জামিনে মুক্ত করার পর নতুন এই গ্রেপ্তারের মধ্য দিয়ে ঘটনাটি নতুন মোড় নিয়েছে।

কী ঘটেছিল আরএএফ ফেয়ারফোর্ডে?
গত রোববার ভোরে আরএএফ ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটির কাছে রহস্যজনকভাবে দাঁড়িয়ে থাকা তিনটি ভ্যান ও মুখ ঢাকা একদল তরুণকে দেখে পুলিশে খবর দেওয়া হয়। অস্বাভাবিক বিষয় হলো, জরুরি নম্বরে প্রথম কলটি করেছিলেন সন্দেহভাজনদেরই একজন। পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিশের কোঠার বয়সের পাঁচ ব্রিটিশ তরুণকে গ্রেপ্তার করে।

ভ্যানগুলোতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো অস্ত্র বা বিস্ফোরক না পাওয়া গেলেও বেশ কিছু পরিমাণ পেট্রোল উদ্ধার করা হয়। ইরানের বিরুদ্ধে পরিচালিত সামরিক অভিযানে মার্কিন বোমারু বিমানগুলো এই বিমানঘাঁটি ব্যবহার করে আসছে।

ইরান-যোগসাজশের কী প্রমাণ রয়েছে?
যুক্তরাজ্য সরকার এ ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার দাবি করলেও এখন পর্যন্ত কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ জনসমক্ষে আনেনি। যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম জানিয়েছেন, ঘটনার পেছনে ইরানের হাত থাকার ‘জোরালো ইঙ্গিত’ রয়েছে এবং একটি জটিল ও গুরুতর তদন্ত চলমান আছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও এ ঘটনায় ইরানের সম্পৃক্ততার শঙ্কা প্রকাশ করে প্রথম পাঁচজনকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। অন্যদিকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, যুক্তরাজ্যকে তারা আগেই ইরানি হামলার বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন।

তবে তেহরান এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ কড়া ভাষায় নাকচ করে দিয়েছে। ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও হাস্যকর’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। এ ছাড়া ভিত্তিহীন অভিযোগের প্রতিবাদে যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূত হুগো শর্টারকে তলব করে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

আগের পাঁচজন কেন জামিন পেলেন?
যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবাদবিরোধী আইন অনুযায়ী সন্দেহভাজনদের দুই সপ্তাহ পর্যন্ত আটকে রাখা যায়। তবে পর্যাপ্ত আলামত না থাকলে ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, জব্দ করা গাড়িতে কোনো বিস্ফোরক না থাকায় এবং ওই তরুণদের থেকে সরাসরি জননিরাপত্তায় কোনো হুমকি না থাকায় তাদের জামিন দেওয়া হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, ওই তরুণরা কোনো নাশকতামূলক চক্রান্তের বিষয়ে না জেনেই অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে বা প্রক্সি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে থাকতে পারেন।

পরবর্তী পদক্ষেপ কী?
লন্ডনের ওয়েস্টমিনস্টার থেকে নতুন করে গ্রেপ্তার হওয়া ২৫ বছর বয়সী ব্রিটিশ-ইরানি তরুণকে এই চক্রান্তের ‘রিক্রুটার’ বা স্থানীয় সমন্বয়কারী হিসেবে সন্দেহ করা হচ্ছে। তদন্তকারীরা এখন অভিযুক্তদের ফোন রেকর্ড, অনলাইন যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের উৎস খতিয়ে দেখছেন। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অনলাইন বা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে অর্থের বিনিময়ে স্থানীয় তরুণদের ভাড়া করে আগুন দেওয়া বা নাশকতার মতো কাজ করানোর যে নজির দেখা গেছে, এটি তেমনই কোনো প্রক্সি চক্রান্তের অংশ কি না, তা বের করার চেষ্টা চলছে।

—আল জাজিরার প্রতিবেদনে অবলম্বনে

এএম