প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ দাবিতে ফের উত্তাল দিল্লি-মুম্বাই

উত্তাল দিল্লি-মুম্বাই
উত্তাল দিল্লি-মুম্বাই | ছবি: সংগৃহীত
0

প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ দাবিতে ফের উত্তাল দিল্লি ও মুম্বাই। যন্তর-মন্তরে বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের ডাকে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে ব্যাপক ধরপাকড় চালিয়েছে পুলিশ। আটক করা হয়েছে অন্তত ৫০০ নেতাকর্মীকে। জারি করা হয়েছে ১৬৩ ধারা। কমিয়ে দেয়া হয়েছে যন্তর-মন্তরের আশেপাশের এলাকার ইন্টারনেটের গতিও। নিরাপত্তার কারণে দিল্লির ১১টি মেট্রো স্টেশন সাময়িক বন্ধ ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে সিজেপির 'জেলে ভরো' কর্মসূচিতে যোগ দিতে জড়ো হচ্ছেন কর্মীরা।

শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের রেষ কাটতে না কাটতে ভারতের রাজনীতি ফের অস্থির প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ ঘিরে। সিইসি পদত্যাগ না করলে ২ অক্টোবর থেকে মুম্বাই থেকে দিল্লি, কলকাতা থেকে গুজরাট দেশব্যাপী কঠোর আন্দোলন শুরুর আল্টিমেটাম আগেই দিয়ে রেখেছিল ককরোচ জনতা পার্টি- সিজেপি। সিইসি বিরোধী আন্দোলনে সরব কংগ্রেসসহ অন্যান্য বিরোধী দলও।

শুক্রবার সকালে দিল্লির যন্তর- মন্তরে বিক্ষোভে নামে আম-আদমি পার্টিসহ বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের সদস্যরা। এতেই বাধে বিপত্তি। একপর্যায়ে ব্যারিকেড দিয়ে আন্দোলনকারীদের পিছু হটাতে চেষ্টা করে পুলিশ। কিন্তু বিক্ষোভকারীরা সড়কে অবস্থান নিলে ধড়পাকড় শুরু করে পুলিশ। টেনে- হিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়

আম- আদমি পার্টির সাবেক মন্ত্রী সৌরভ ভরদ্বাজ ও বিধায়ক সঞ্জীব ঝাসহ কয়েকশ নেতাকর্মীকে। গ্রেপ্তারের মুখেও দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা আন্দোলনকারীদের।

আন্দোলনকারীদের একজন বলেন, ‘পুলিশ যতবারই আটক করুক না কেন, আমরা আবার রাজপথে জড়ো হবো। আমরা কাউকেই ভয় পাই না। পুরো দেশ জানে, এসআইরের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হচ্ছে। অসংখ্য মানুষ ভোটাধিকার হারিয়েছে। সিইসিকে পদত্যাগ করতেই করতে হবে। স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করলে পরিণতি অনেক খারাপ হবে।’

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ কর্মসূচির জন্য ৬দিন আগেই দিল্লি পুলিশের কাছে অনুমতি চায় তারা। কিন্তু পুলিশ তা প্রত্যাখ্যান করে দেয়। এছাড়াও, আন্দোলন কমাতে প্রশাসন যন্তর- মন্তরের আশেপাশের ইন্টারনেটের গতি কমিয়ে দিয়েছে বলেও অভিযোগ বিক্ষোভকারীদের।

যন্তর- মন্তরের আশেপাশের ৫-৬ কিলোমিটার এলাকা তারা ঘেরাও করে রেখেছে। ইন্টারনেট জ্যামিং করা হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপও কাজ করছে না। আমরা নিজেদের মধ্যে যোগাযোগ করতে পারছি না।

পুলিশের দাবি, কোনো অনুমতি ছাড়াই যন্তর- মন্তরে জড়ো হন আন্দোলনকারীরা। জানমালের নিরাপত্তায় ১৬৩ ধারা অর্থাৎ দিল্লিজুড়ে ৫ জন বা তার বেশি মানুষের জমায়েত নিষিদ্ধ করেছে কর্তৃপক্ষ। নিরাপত্তার কারণে বন্ধ দিল্লির ১১ স্টেশনের মেট্রো পরিষেবা।

এদিকে, একই দাবিতে মুম্বাইয়ের শিবাজি পার্কে জড়ো হতে শুরু করেছে সিজেপির নেতাকর্মীরা। এর আগে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে পুলিশের কাছে সমাবেশের অনুমতি চাইলেও তা প্রত্যাখ্যান করে পুলিশ। বাড়তি নিরাপত্তার চাদরে।

এফএস