ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার নারগুন ইউনিয়নের দিনমজুর মজিবর হোসেন স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ থাকেন নালারহাট গ্রামে। মজিবরের অভিযোগ, দায়িত্বরত পল্লী বিদ্যুতের মিটার রিডার গোলাম কাদেরকে প্রতি মাসেই বিদ্যুতের বিল দিলেও চলতি মাসে তার বিলের কাগজে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৬ এর আগস্ট পর্যন্ত ১৮ মাসের ৬৭ হাজার ৭৮০ টাকা বকেয়া এসেছে।
মজিবর বলেন, ‘প্রতি মাসের বিল প্রতি মাসে দিয়েছি। রাস্তায় থেকে আমার কাগজ নিয়ে গেছে। বলতেছে, যে বিলটা কাগজটা দেন, বিলটা আমি গত মাসে আমার টুকরা এনে দিব। আমার টুকরাগুলাও দেয়নি।’
অন্য একজন বলেন, ‘বিল আমাগো কোনো বকেয়া ছিল না। কিন্তু এই মাসের বিল আইছে ৬৫,০০০ টাকা।’
নারগুন ইউনিয়নের ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডে প্রায় ১০ হাজার মানুষের বসবাস। এর মধ্যে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহক শতাধিক। এসব গ্রাহকদের বিল লেখার দায়িত্বে ছিলেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মিটার রিডার মাসুদ রানা ও গোলাম কাদের।
কারও কাছে মাসের পর মাস, কারও বছর ধরে প্রায় কোটি টাকার বিদ্যুৎ বিল উত্তোলন করেও জমা দেয়নি তারা। ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর গা ঢাকা দিয়েছেন ওই দুই মিটার রিডার মাসুদ রানা ও গোলাম কাদের।
আরও পড়ুন:
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘২৪০০-২৫০০ থেকে তিন হাজার পর্যন্ত বিল আসে। এই জায়গায় এই মাসে আমার বকেয়া বিল আসছে ৩২ হাজার।’
অন্য একজন বলেন, ‘আমার কাছে রাস্তায় বিল নিছে, বাড়িতে বিল নিছে। নেয়ার পরও এখন এই মাসে যে বিল আইছে, আমার বিল ১৯ হাজার ৯০০ টাকা বিল আইছে।’
ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ৩০ সেপ্টেম্বর সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন ও ১০ কার্যদিবসের মধ্যে রিপোর্ট দিতে বলা হয়েছে।
ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার আশরাফুল আলম খান বলেন, ‘আমাদের ফিল্ড লেভেল থেকে সরাসরি গ্রাহকের নিকট থেকে টাকা নেয়ার কোনো নিয়ম নাই। গ্রাহকের কাছ থেকে আমাদের ব্যাংক, অফিস, নগদ, বিকাশ ইত্যাদির মাধ্যমে তারা পরিশোধ করতে পারে। যে দুই কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগটা আসছে, অভিযোগটা অত্যন্ত গুরুতর অন্যায়। এটা আমরা এরইমধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করেছি এবং বিশেষত কাদের প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন, মে বি ২০ দিন হবে পলাতক রয়েছে। তার বিরুদ্ধে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছি।’
অভিযুক্ত দুই মিটার রিডার মাসুদ রানা ও গোলাম কাদেরের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করলেও তাদের কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।




