মৌসুমের শেষ সময়ে এসেও ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যায় নাকাল ভারতের সবচেয়ে জনবহুল রাজ্য উত্তর প্রদেশ। বৃষ্টি কমলেও তিন দিনের টানা বর্ষার ছাপ রাজ্যটির শহর- গ্রাম সবখানেই। বাড়ছে প্রাণহানি ও আহতের সংখ্যা।
দুর্যোগ প্রশমন দপ্তরের তথ্য বলছে, নতুন দফা দুর্যোগে উত্তর প্রদেশের বিভিন্ন জেলার দুই হাজারেরও বেশি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বিনষ্ট ৮১ হেক্টর ফসলি জমি। মারা গেছে শতাধিক গবাদি পশুও। বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নিতে কাজ করছে উদ্ধারকারী দল। বন্ধ বেশিরভাগ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
এদিকে নেপালে ভারী বৃষ্টির জেরে গণ্ডক ব্যারেজের গেট খুলে দেয়ায় বন্যায় তলিয়েছে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য বিহার। সোমবার পর্যন্ত ব্যারেজটির ৩৬টি গেট দিয়ে পাঁচ লাখ কিউসেক পানি ছাড়া হয়েছে। এতেই পানিবন্দি রাজ্যটির ৬ জেলার কয়েক হাজার বাসিন্দা।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ঘরে পর্যন্ত পানি ঢুকেছে। আশেপাশের এলাকার মানুষও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত।’
আরও পড়ুন:
বন্যার পানিতে ডুবছে পূর্বের আরেক রাজ্য ওড়িশাও। এখন পর্যন্ত রাজ্যটির ৭৫ হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এদিকে মঙ্গলবার বজ্রপাতসহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস জারি রয়েছে উত্তরাখণ্ড, আসাম, মেঘালয়, ত্রিপুরাসহ উত্তর-পূর্ব ভারতের সাত রাজ্যে। আগামী দুই দিন উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে পর্যটকদের সতর্কতা জারি করেছে কর্তৃপক্ষ।
ফের দুর্যোগে নাকাল হিমালয় কন্যা নেপাল। ভারী বৃষ্টিতে কালী গণ্ডকী করিডোরের বেনি জোমসোম- কোরালা সড়ক সংযোগের বিভিন্ন অংশে ধস দেখা দেয়ায় বন্ধ চীনের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনকারী কোরালা ক্রসিং। দুর্যোগকবলিত অঞ্চলগুলোতে ভেঙ্গে পড়া সড়ক ও সেতু নির্মাণে কাজ করছে কর্তৃপক্ষ। নতুন দফা দুর্যোগে ব্যাহত জনজীবন।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘রাস্তাটি পুরোপুরি জলমগ্ন ও ক্ষতিগ্রস্ত। নদীর পানি রাস্তার ওপর দিয়ে বইছে। আমাকে কাদাপানির মধ্য দিয়েই হেঁটে যেতে হচ্ছে।’
থাইল্যান্ডে বৃষ্টি কমলেও স্বস্তি ফেরেনি জনজীবনে। এখনও জলমগ্ন ব্যাংককের প্রধান ৯টি সড়ক। হাঁটু ও কোমর সমান পানি পেরিয়েই দৈনন্দিন কাজে যাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। তবে স্বস্তির খবর হলো আগামী তিন দিনে ধীরে ধীরে কমে আসবে বৃষ্টিপাত। স্বাভাবিক হবে আবহাওয়া পরিস্থিতি।





