ডেঙ্গু চিকিৎসায় বাড়ছে ব্যয়, চাপে নিম্নবিত্তরা

হাসপাতালে ভর্তি থাকা ডেঙ্গু রোগী
হাসপাতালে ভর্তি থাকা ডেঙ্গু রোগী | ছবি: এখন টিভি
0

সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গুর চিকিৎসায় একজন রোগীর ব্যয় হচ্ছে কমপক্ষে ১২ হাজার টাকা, আর ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে অন্তত ৩৫ হাজার টাকা। বেসরকারি হাসপাতালে এ ব্যয় লাখ টাকা ছাড়িয়ে যায়। এছাড়া চিকিৎসার সময় ও চিকিৎসা পরবর্তী শারীরিক দুর্বলতায় কাজ করতে না পারায় চাকরি যাওয়ার ঝুঁকিতে থাকেন কারখানা শ্রমিক থেকে শুরু করে নিম্নবিত্তরা।

নারায়ণগঞ্জের অপু শিকদার গেল এক সপ্তাহ ধরে লড়ছেন ডেঙ্গুর সঙ্গে। নারায়ণগঞ্জের দুই হাসপাতালে চিকিৎসায় উন্নতি না হওয়ায় এসেছেন ঢাকা মেডিকেলে।

পেশায় গার্মেন্টস কর্মী অপু শিকদারের এরমধ্যেই খরচ হয়েছে অন্তত ২৫ হাজার টাকা। শেষ পর্যন্ত এ খরচ কততে গিয়ে ঠেকে, তা অনিশ্চিত। তবে এই ব্যয় মেটাতে হিমশিম অবস্থা পুরো পরিবারের।

অপু শিকদারের স্ত্রী বলেন, ‘এখন পর্যন্ত ধরেন ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা গেছে। আর বাসা পর্যন্ত যাইতে যাইতে ৩০ হাজার টাকার ওপরে যাবে।’

ঢাকা মেডিকেলের ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি অন্তত ২০ জন রোগীর সঙ্গে কথা বলে এখন টিভির প্রতিনিধি দল। তাতে দেখা যায়, প্রথমেই যারা সরাসরি সরকারি মেডিকেলে এসেছেন, তাদের খরচ হয়েছে অন্তত ১২ থেকে ১৫ হাজার। ঢাকার বাইরে থেকে আসা রোগীদের ক্ষেত্রে এ খরচ ৩৫ থেকে ৪০ হাজার। সরকারি হাসপাতালে স্যালাইন, প্রয়োজনীয় কিছু ওষুধ বিনামূল্যে পেলেও খরচ হয় খাবার, যাতায়াত, বিভিন্ন পরীক্ষায়।

আারও পড়ুন:

রোগীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘যে রক্তের প্লাটিলেটটা তো অনেক কমে যায়। ওইটা আরকি দেখার জন্য প্রতিদিন সিবিসি করা লাগে।’

অন্য একজন বলেন, ‘এই পর্যন্ত গাড়ি-ঘোড়া ভাড়া দিয়ে মনে করেন দেখা গেছে যে আমার ১৫-১৬ গেছে আরকি।’

ঢাকা মেডিকেল প্রশাসন বলছে, বর্তমানে হাসপাতালটিতে ভর্তি ২৫০ ডেঙ্গু রোগী। চিকিৎসায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি আছে বলেও দাবি তাদের।

ঢাকা মেডিকেলে কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আতিকুল্লাহ বলেন, ‘এ ব্যাপারে যথেষ্ট মানে কর্তৃপক্ষ সজাগ। ম্যানেজমেন্ট মানে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য প্রিপেয়ার্ড। তিনটা ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু ডেডিকেটেড ওয়ার্ড করা হয়েছে। পেশেন্ট আলহামদুলিল্লাহ খুব ভালো সাপোর্ট পাচ্ছে। কোনো সংকট এই মুহূর্তে তেমন নাই।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, বেসরকারি বি ক্যাটাগরির হাসপাতালে খরচ অন্তত ৫০ হাজার। প্রথম শ্রেণির হাসপাতালে সেটি কয়েক লাখ পর্যন্ত হতে পারে। প্রতিরোধযোগ্য এমন ব্যয়ে বাড়তি বোঝা তৈরি করছে সাধারণ মানুষের।

আরও পড়ুন:

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ‘বাইরে থেকে রোগী যদি আসে, তাহলে তাদের আসা-যাওয়া, থাকা, অ্যাটেনডেন্টের খরচ—এগুলো বেড়ে যায়। এ ক্যাটাগরি হাসপাতালে তাহলে তো এক লাখের ওপরে যেত। এটা থেকে বড় জিনিস যেটা, সেটা হচ্ছে যে তিন-চার দিনে জ্বরে একটা মানুষ মারা যাবে, এটা তো কোনো সভ্য সমাজের জন্য মেনে নেয়াটা কঠিন, তাই না? এটা যদি হতো যে এটাকে প্রিভেন্ট করা যাচ্ছে না, যেকোনো প্রিভেন্টের উপায় নাই, আমরা অসহায় হয়ে গেছি, তাহলে এক কথা ছিল। সেটা তো না।’

চিকিৎসায় সরাসরি ব্যয়ের সঙ্গে কাজে অনুপস্থিতি, সুস্থ হওয়ার পরও দীর্ঘ সময় শারীরিক দুর্বলতা, এমনকি পুরো পরিবার রোগীর সঙ্গে থাকায় বাড়তি চাপ তৈরি করছে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের। বাড়তি আর্থিক বোঝা বছরজুড়ে বয়ে নিতে হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

এসএস