দীর্ঘ ১০ বছরের গবেষণায় উঠে এসেছে-লেবু, টমেটো, ধনিয়া পাতা আর পালং শাকে মিলছে অ্যান্টিক্যানসার সাপ্লিমেন্ট। গবেষণাটি করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা প্রফেসর ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মামুনুর রশীদ ও শিক্ষার্থী আরিফুল ইসলাম ও রহমত আলী।
গবেষণার প্রথম ধাপে ৬৮ ধরনের শাকসবজি, ফলমূল ও মসলাজাতীয় খাদ্য উপাদান থেকে তৈরি করা হয় নির্যাস। এরপর ক্যানসার সেল লাইনের ওপর চালানো পরীক্ষায় টমেটো, পালংশাক, ধনিয়াপাতা এবং লেবুর খোসা এই চারটি উপাদান নিয়ে আরও গবেষণা করে গবেষকরা প্রমাণ করেন, এই ৪টি ক্যান্সার প্রতিরোধক।
গবেষক আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘বিভিন্ন ধরনের সবজি, ভেজিটেবলস এবং মশলা নিয়ে কাজ শুরু করি। এর মধ্যে আমরা সবচাইতে ভালো অ্যাক্টিভিটি পাই লেবুর খোসা, টমেটো, পালংশাক এবং ধনিয়াপাতায়।’
আরেকজন গবেষক বলেন, ‘আমাদের এই গবেষণার মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে আমাদের অ্যান্টি-ক্যান্সার সাপ্লিমেন্টটা ক্যানসারের বিরুদ্ধে খুব ভালো অ্যাক্টিভিটি দিয়েছে, যা আমরা মাইস মডেলে পেয়েছি।’
আরও পড়ুন
গবেষণায় এসব নির্যাস ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ও বিস্তার রোধে এবং কোষমৃত্যু প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য কার্যকারিতা যাচাই করা হয়। এরপর চারটি উপাদানের সম্মিলিত নির্যাস নিয়ে পরীক্ষা চালান গবেষকরা এবং ফলাফলের ভিত্তিতে তৈরি করা হয় ‘অ্যান্টিক্যানসার সাপ্লিমেন্ট সিরাপে’র একটি প্রোটোটাইপ।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের গবেষক প্রফেসর ড. এ এইচ এম খুরশীদ আলম বলেন, ‘ক্যান্সার শুধু তা নয়, আমি মনে করি আমরা ডায়াবেটিস নিয়েও কাজ করছি। আমরা উল্লেখযোগ্য ফলাফলও পেয়েছি কিছু কিছু এডিবল ফুডের উপরে। প্রতিটা অসুখের বিরুদ্ধে যদি আমরা খাবার নির্বাচন করে দিতে পারি, তাহলে আমাদের দৈনন্দিন চাহিদায় আমরা যদি এগুলো রাখি প্রয়োজনমতো, তাহলে আমরা অনেক অসুখ থেকে আমরা কিন্তু প্রতিকার পাবো।’
ইন্ডাস্ট্রিগুলো অ্যাকাডেমির সঙ্গে কাজ করলে এবং ফান্ডিংয়ের ক্ষেত্রে সহযোগিতা করলে- গবেষণার মান আরও বেড়ে যাবে বলে মনে করেন এ গবেষক।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক ও উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. মামুনুর রশীদ বলেন, ‘ইন ভিট্রো সেল লাইনে কাজ করেছি, আমরা ইন ভিভো এনিমেল এ কাজ করেছি। আমরা কিছু পাইলট স্টাডি করেছি। এগুলো হচ্ছে বিফোর গোয়িং টু দ্য প্রিক্লিনিক্যাল বা ক্লিনিক্যাল টেস্ট। আমরা যদি এগুলোকে পিউরিফাই করে এবং আমরা সিঙ্গেল কম্পাউন্ড বা পিওর কম্পাউন্ডের মাধ্যমে যদি বাজারজাত করতে পারি তাহলে প্রোডাক্ট হিসেবে কিন্তু এটা যুগান্তকারী একটা পদক্ষেপ হবে।’
গবেষকরা যাতে আরও আগ্রহী হয়ে জাতীয় অর্থনীতিতে সরাসরি ভূমিকা রাখতে পারে- সেকারণে অর্থ বরাদ্দ বাড়ানোর পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে বলে জানান উপাচার্য।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, ‘রিসার্চগুলো সত্যিই দেশের সোশ্যাল ইম্প্যাক্ট যেটা—দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ডিরেক্ট ইম্প্যাক্ট রাখার মতো। রিসার্চ করতে গেলে এটা তো ইনভেস্টমেন্ট, এটাতে প্রচুর ফান্ডের প্রয়োজন হয়। ইউজিসি আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছে যে এবার থেকে ফান্ড বাড়ছে।’
খাদ্য উপাদান থেকে ওষুধের সম্ভাবনা গবেষণার এই উদ্যোগ আশার কথা বললেও, ক্যানসার চিকিৎসায় এর ব্যবহার কতটা কার্যকর ও নিরাপদ, তা জানতে অপেক্ষা করতে হবে আরও গবেষণার ফলাফলের জন্য।




