গ্রাফটিংয়ে ফলন-লাভ; আমদানিতে লোকসানের শঙ্কা টমেটো চাষিদের

টমেটোর চাষ
টমেটোর চাষ | ছবি: এখন টিভি
0

গ্রাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে লাভবান মৌলভীবাজারের কৃষক। যদিও টমেটো ও কাঁচামরিচ আমদানির কারণে এবার বাড়ছে লোকসানের শঙ্কা। সার, কীটনাশকসহ সব জিনিষের দাম চড়া হলেও টমেটোর দাম কম। টমেটোর জন্য আলাদা হিমাগার ও প্রক্রিয়াজাতকরণ ব্যবস্থার পাশাপাশি স্বল্পসুদে ঋণ দেয়ার দাবি কৃষকদের।

কমলগঞ্জে আগাম জাতের টমেটো খরিপ-১ চাষে সফলতা পেয়েছে কৃষক। তবে এবছর টমেটোর দাম কম এবং সার ও কীটনাশকের দাম বেশি হওয়ায় বিপাকে চাষিরা। জেলায় ১২০০ হেক্টর জমিতে হয়েছে টমেটোর আবাদ। আর চারা উৎপাদন হয়েছে ৬৫ লাখের ওপরে।

তরুণ উদ্যোক্তা আব্দুল মান্নান এবছরে ১৩ বিঘা জমিতে আগাম টমেটো আবাদ করেন। গত বছরের তুলনায় অনেক কমে বিক্রি, সবকিছুর দাম চড়া, সংশ্লিষ্টদের অসহযোগিতাসহ নানা সমস্যার কথা জানান তিনি।

আব্দুল মান্নান বলেন, ‘আমরা লাস্টের দিকে যখন দেখা যায় যে, মাল কেনার মতো কোনো পাইকার নাই। মাল এখানে পচিয়া রই যায়। যদি হিমাগার যদি থাকতো, তো দেশের জন্যও ভালো হতো।’

কমলগঞ্জের মাঠের পর মাঠ শুধুই টমেটো চাষ। এখান থেকে দেশি সর্বত্র যায় গ্রাফটিং পদ্ধতির আগাম জাতের টমেটোর চারা। কৃষকরা জানালেন বাজারজাতকরণসহ নানা সমস্যার কথা।

চাষিদের মধ্যে একজন বলেন, ‘একটা রোগ খুবভাবে আক্রমণ করছে আমাদেরকে। পাতাতে কুকরি হয়ে যাইতেছে। সে কারণে আমরা টমেটো অনেককিছু গাছ তুলে ফেলছি আমরা।’

গত বছর ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও এবছর তা ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এদিকে সার ও কীটনাশকের অধিক দামের পাশাপাশি কাজ না হওয়ার কথাও জানালেন অনেকে।

আরও পড়ুন:

কৃষকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘গত বছর এই সময়ে প্রায় ১০০ টাকার ওপরে ছিল কিন্তু এবার মাত্র ৫০ থেকে ৬০ টাকা। এভাবে যদি হয়, আমরা বড় ধরনের লসের সম্মুখীন হবো।’

টমেটো গ্রাফটিং চারা ও চাষের বিভিন্ন সম্ভাবনার কথা বললেন কর্মকর্তারা।

মৌলভীবাজার কমলগঞ্জের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘সার্বক্ষণিক কৃষকদের পাশে থেকে পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি, এই গ্রাফটিং টমেটো চাষাবাদের ক্ষেত্রে। এই অন্যত্র ছড়িয়ে দেয়ার ব্যাপারেও আমরা সর্বাত্মক সহযোগিতা করে যাচ্ছি।’

টমেটো চাষিদের প্রণোদনা ও নদীর বাঁধ মেরামতের ব্যবস্থা নেয়ার কথাও জানানো হয়। তবে হিমাগারের কোনো সুখবর দিতে না পারলেও কৃষকদের বাঁচাতে নানা উদ্যোগের কথা জানালেন এক কর্মকর্তা।

মৌলভীবাজার কমলগঞ্জের সন্ধীপ তালুকদার বলেন, ‘হাজারের বেশি লোক কিন্তু এই কর্মসংস্থানের সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি এটাতে আমরা আমরা আসার পরে এই বিষয়টাতে নিয়ে আপনাদের এই আমাদের কাজ করার একটা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছি।’ আমরা পরবর্তীতে আমাদের উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সঙ্গেও কথা হয়েছে। আমরা প্রণোদনার বিষয়টাও আমাদের বিবেচনায় রেখেছি।’

টমেটো গ্রাফটিং চাষে লাভবান হচ্ছেন চাষি, দিনমজুর, নারী শ্রমিকরা। এই গ্রাফটিং বিপ্লব এখন মডেল হতে পারে সারা দেশের জন্য।

এসএস