আজ (সোমবার, ১৯ অক্টোবর) রাতে নারায়ণগঞ্জের মিশনপাড়া এলাকার রামকৃষ্ণ মিশন আশ্রমের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন আইজিপি।
আইজিপি বলেন, ‘দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। মাদক ব্যবসা, কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ ও চাঁদাবাজির মতো সামাজিক সমস্যাগুলো মোকাবিলায় কোনো ধরনের ছাড় দেয়া হবে না।’
তিনি বলেন, ‘জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী সংকট কাটিয়ে পুলিশকে ঘুরে দাঁড় করাতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। পুলিশের সদস্যদের মনোবল বৃদ্ধি, পেশাগত দক্ষতা উন্নয়ন এবং কার্যকরভাবে দায়িত্ব পালনের সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘একটি কার্যকর ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে সদস্যদের দক্ষতা ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিকল্প নেই। জনগণের আস্থা অর্জন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে।’
এসময় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশের পাশাপাশি সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তিনি। তিনি বলেন, ‘জনগণকে আইন মেনে চলার পাশাপাশি অপরাধ প্রতিরোধ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশকে সহযোগিতা করতে হবে।’
আরও পড়ুন:
মাদকাসক্তি ও কিশোর গ্যাং নিয়ে উদ্বেগ
পাড়া-মহল্লায় তরুণদের মধ্যে মাদকাসক্তি বাড়ার বিষয়টি উদ্বেগজনক উল্লেখ করে আইজিপি বলেন, ‘মাদকাসক্তি বিভিন্ন অপরাধের অন্যতম কারণ হয়ে উঠছে। তরুণদের একটি অংশ মাদকের কারণে অপরাধপ্রবণ হয়ে পড়ছে, যা পরিবার ও সমাজের জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি তৈরি করছে।’
তিনি বলেন, ‘মাদক নির্মূল এবং কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া প্রয়োজন।’ এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এরই মধ্যে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এছাড়া কিশোর গ্যাংয়ের অপরাধ নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সমাজের সচেতন নাগরিকদেরও এগিয়ে আসার ওপর গুরুত্বারোপ করেন আইজিপি। তিনি বলেন, ‘তরুণদের অপরাধ থেকে দূরে রাখতে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’
নিরাপদ সমাজ গঠনে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান
আলী হোসেন ফকির বলেন, ‘নিরাপদ সমাজ গড়ে তুলতে মাদক ও অপরাধের বিরুদ্ধে পুলিশ ও জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতা অপরিহার্য।’
পরিদর্শনকালে আইজিপির সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার মো. মনিরুজ্জামান মিয়া, ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রায়হান কবির, নারায়ণগঞ্জ সিআইডির পুলিশ সুপার মো. জাকির হোসেন (অতিরিক্ত ডিআইজি পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত), নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার হাবিবুর রহমান এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী।





