আজ (শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সরকারি হাম-রুবেলা টিকা দেয়া হবে মিরপুরের রাড্ডার এ টিকাকেন্দ্রে। কিন্তু বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে টিকাকেন্দ্রে ভাঙচুর ও লুটপাট চালায় দুর্বৃত্তরা।
স্থানীয়রা জানান, কি কারণে এই হাসপাতালকে ভেঙে ফেলা হয়েছে তা বলতে পারেন না তারা।
গুঁড়িয়ে দেয়া হয় প্রতিষ্ঠানটির একটি পাকা ও তিনটি আধা পাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনা। দুই নিরাপত্তাকর্মীকে জিম্মি করে মূল্যবান যন্ত্রপাতি, ওষুধ, ভ্যাকসিন, নগদ টাকা ও অন্যান্য মালপত্র লুট নিয়ে যায়।
স্থানীয় একজন বলেন, ‘১৬ বছর আগেও দেখছি এভাবেই হসপিটাল চলেছে। কিন্তু এটার মালিককে বা কারা আমরা তো তা জানি না।’
এতে প্রায় এক কোটি টাকার বেশি ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছেন প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক। বলেন, ৫০ বছর ধরে সরকারি সহযোগিতায় সেবা দিয়ে আসছে এ টিকাকেন্দ্র।
আরও পড়ুন
রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক ডা. নাসরিন আখতার বলেন, ‘এই জায়গাটা সরকারের, সরকারের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে। আর চুক্তিপত্রের মাধ্যমে আমরা কাজ শুরু করি ১৯৭৬ সালে। মিনিস্ট্রি অফ হেলথের সঙ্গে চুক্তিপত্রের মাধ্যমে রাড্ডা এখানে কাজ করা শুরু করে। বিভিন্ন দফায় এটার মেয়াদ বৃদ্ধি করা হয় এবং সেই থেকে ৫০ বছর ধরে আমরা এখানে কাজ করে আসছি।’
‘আমাদের দাবিদাওয়া হচ্ছে যারা এটার সাথে জড়িত, এই সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত, তাদেরকে বিচারের—দ্রুত বিচারের আওতায় আনা হোক এবং আমরা যাতে এই কাজটা কন্টিনিউ করতে পারি, সে ব্যাপারে সরকার ব্যবস্থা নিক। এটাই আমাদের চাওয়া।’
এ ঘটনায় শাহ আলী থানায় একজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত ২৫০ জনের নামে মামলা হলে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ৪জনকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
শাহ আলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘একজন নামসহ, পিতা মাতা অজ্ঞাত, ঠিকানা অজ্ঞাত। দ্রুত বিচার আইনে মামলা। আর আসামি তো ৪ জন গ্রেপ্তার হয়েছে।’
মিরপুরে রাড্ডা টিকাকেন্দ্র রাতের আধারে ভাংচুর অনাকাঙ্ক্ষিত দাবি করে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ারও আশ্বাস দিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক।
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কে বা কারা করেছে, রাত্রে বেলা সেটাকে ফাইন্ড আউট হয়তোবা করা যায়নি। পরবর্তীতে আমি নিজে পুলিশের ডিসির সঙ্গে কথা বলেছি। এ ধরনের অপ্রত্যাশিত একটা ঘটনা ঘটে গেল, আপনি কি ব্যবস্থা নিয়েছেন? ডিসি সাহেব বলেছে, আমরা তদন্ত করছি এবং সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে যারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত এবং তাদেরকে আমরা গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করছি।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এটার মালিকানা নিয়ে যা দ্বন্দ্ব করেছে, সেটা কোর্টে নির্ধারিত হবে। এর পূর্ব পর্যন্ত যাতে আমাদের টিকাদান কর্মসূচি যাতে চালু থাকে, সে ব্যবস্থা করব। উনি নিশ্চয়ই সে ব্যবস্থা অবশ্যই করেছেন। পুলিশ সেটা দেখভাল করবে। ভবিষ্যতে যেন এটা নিয়ে আর কোনো ধরনের অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি কেউ না করতে পারে, আমরা সে ব্যাপারে যথেষ্ট মানে প্রতিশ্রুতিশীল আছি।’
এদিকে শনিবার সকাল থেকে অস্থায়ীভাবে ক্যাম্প করে হাম-রুবেলা টিকা কর্মসূচি চলমান রেখেছে এ টিকাকেন্দ্র।




