২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে লেবাননের সশস্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন হিজবুল্লাহকে ধরাশায়ী করার স্মৃতি মনে করিয়ে দিয়ে প্রশংসায় ভেসে যাবেন। কিন্তু হলো উল্টোটা। ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ বর্জনের ফলে সাধারণ পরিষদের বড় অংশ তো খালিই পড়েছিল, উপস্থিত প্রতিনিধিদের অনেকে পেজারকাণ্ডে তালি বাজালেও বাকিদের দুয়োধ্বনিও প্রতিধ্বনিত হয় অধিবেশন কক্ষে।
বিশ্ব কূটনীতির কেন্দ্র কিছু সময়ের জন্য যেন হয়ে উঠেছিল, বেনইয়ামিন নেতানিয়াহুর নির্বাচনি প্রচারের মঞ্চ। জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে গর্বের সঙ্গে প্রচার করলেন দেশে দেশে নিজের যুদ্ধ লাগিয়ে দেয়ার ইতিহাস।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেয়ার জন্য মঞ্চে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী পা রাখতেই, অধিবেশন কক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে যান বেশিরভাগ দেশের প্রতিনিধিরা। বরাবরের মতোই হাসিমুখে সে দৃশ্য দেখেন নেতানিয়াহু। সাফাই গান যুদ্ধপন্থী নীতির পক্ষে। প্রতিবেশী দেশগুলোর ভূখণ্ড দখলের জন্য ইহুদিদের ঐতিহাসিক মালিকানার দাবিও করেন তিনি।
আরও পড়ুন
ইতিহাসবিদদের মতে, ইতিহাসে সিরিয়া, লেবানন, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইহুদিদের উপস্থিতির বিষয়ে দ্বিমত না থাকলেও রোমান, বাইজেন্টাইন, আরব, ক্রুসেডার, অটোমানসহ বিভিন্ন সাম্রাজ্যের অধীনে জনসংখ্যা বিন্যাসে ব্যাপক পরিবর্তন স্পষ্ট। ইতিহাস এটাও বলে যে অঞ্চলটিতে আধুনিক জমির দলিল এবং সম্পত্তির মালিকানা আইনগতভাবে প্রাচীন ধর্মীয় বা ঐতিহাসিক সম্পর্ক থেকে আলাদা। তাই দখলকৃত অঞ্চল নিয়ে কট্টর ইহুদি জাতীয়তাবাদী সরকারপ্রধান হিসেবে নেতানিয়াহু’র বিরুদ্ধে ইতিহাস বিকৃতির অভিযোগও নতুন নয়।
ইরান সরকারের প্রতিনিধিদের তাচ্ছিল্য করে বলেন, ‘ক্ষমতাচ্যুত হলে যেন তারাও নিজেদের গল্প বলতে পারেন, সেজন্য তাদের জন্য আছে নেতানিয়াহুর উপহার।’
এটা যোগাযোগের একটা ডিভাইস- স্টারলিংক। এর মাধ্যমে মানুষ সত্য জানতে পারে, নিজেদের অধিকার, চিন্তা আর মত প্রকাশের স্বাধীনতার চর্চা করতে পারে। এটা এখানে রেখে যাবো আমি ইরানের প্রতিনিধিদের জন্য। যেন তারা যখন অনিবার্যভাবে ক্ষমতাচ্যুত হবেন, তখন যেন তারাও স্বাধীনভাবে সামাজিক মাধ্যমে নিজেদের গল্প তুলে ধরতে পারেন।
আরও পড়ুন
ক্রমশ বিশ্ব রাজনীতিতে কোণঠাসা হতে থাকা নেতানিয়াহুর ঢালাও মিথ্যাচারিতার সময় জাতিসংঘের ভেতরে নীরবতা থাকলেও, বাইরে চলছিল তুমুল প্রতিবাদ। ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ইহুদি অধিকার সংগঠন ‘জিউশ ভয়েজ ফর পিস’র উদ্যোগে নিউইয়র্কে জাতিসংঘ কার্যালয় প্রাঙ্গণে এ বিক্ষোভ সমাবেশে যোগ দেয় প্রায় ২০০ মানুষ। গাজায় যুদ্ধের নিন্দা আর নেতানিয়াহুকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান খোদ ইহুদিরাই।
এক ইহুদি বলেন, ‘প্রায় তিন বছর ধরে মানুষের মৃত্যুর সরাসরি সম্প্রচার দেখছি। তাদের বাড়িঘর পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন করে দেয়া হচ্ছে, শিশুদের ছিন্নভিন্ন করে ফেলা হচ্ছে। আর কী এক অদ্ভুত কারণে তারা প্রধানমন্ত্রীকে এখানে এসে কথা বলার অনুমতি দিচ্ছে, অথচ তার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা রয়েছে।’
যান চলাচলে বাঁধা সৃষ্টির অভিযোগে বিক্ষোভকারীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় চালায় পুলিশ। গ্রেপ্তার করে অস্কারজয়ী সুজান স্যারানডন, এমিজয় হান্নাহ এইনবাইন্ডার, ডেমোক্র্যাট নেতা-নিউইয়র্ক সিটি কাউন্সিলের সদস্যসহ অর্ধশত মানুষকে।




