মাস দুয়েক আগেই ‘নিট’ প্রশ্নফাঁস ইস্যুতে দিল্লির যন্তর মন্তরে ককরোচ জনতা পার্টির আন্দোলন ঘিরে তোলপাড় হয়েছিল গোটা ভারতে। সরে যেতে হয়েছিল কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রীকে। ওই আন্দোলনের তিন পরিচিত মুখ, সিজেপির তিন প্রধান নেতা অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আবারও দেখা গেল পুরনো ফ্রেমে।
বৃহস্পতিবার রাজধানী নয়দিল্লিতে সংবাদ সম্মেলন, ত্রিমুখী দাবি নিয়ে হাজির সিজেপি। শনিবারের মধ্যে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার পদত্যাগ না করলে দেশজুড়ে আন্দোলনের হুঁশিয়ারি।
এরপর শুক্রবার অভিজিৎ দীপকে’র এক্স পোস্ট, এবার আর দিল্লির যন্ত্রর-মন্তর নয়, শনিবারের মধ্যে সিইসি ইস্তফা না দিলে আগামী ২ অক্টোবর মুম্বাই থেকে শুরু হবে বিক্ষোভ-সমাবেশ, যা ছড়িয়ে দেয়া হবে ভারতজুড়ে।
আরও পড়ুন:
সিইসি’র অপসারণ মুখ্য হলেও ককরোচ জনতা পার্টির দাবি ত্রিমুখী। আসন্ন সবগুলো নির্বাচন স্থগিত, এসআইআর কার্যক্রম বন্ধ করে ২০২৫ সালের জানুয়ারির ভোটার তালিকায় ফেরত যাওয়া এবং স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে এসআইআরের কার্যক্রম খতিয়ে দেখার শর্ত দিয়েছে সিজেপি। আর এই তদন্ত সংক্রান্ত নথি রাখতে হবে সুপ্রিম কোর্টের জিম্মায়, যেন হাতছাড়া না হয়। আর সবশেষে নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ সংক্রান্ত ২০২৩ সালের আইন বাতিল করে নতুন আইন প্রণয়ন করতে হবে, যেখানে থাকতে হবে সুশীল সমাজের সদস্যদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।
গত বুধবার ইংরেজি দৈনিক দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের পর ভারতজুড়ে সিইসি হটাও গুঞ্জনের শুরু। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের একতরফা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে গেল ১০ মাসে ১৪ বার আপত্তি জানিয়েছেন দুই নির্বাচন কমিশনার সুখবীর সিং সান্ধু ও বিবেক যোশি। আর এতেই একজোট বিজেপিবিরোধী প্রায় সব শক্তি।
যদিও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের ওই প্রতিবেদনকে একপাক্ষিক ব্যাখ্যা হিসেবে উল্লেখ করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। স্বচ্ছ্বতা রক্ষা ও আইন মেনেই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে দ্য হিন্দু-কে জানিয়েছে ইসি।
এদিকে ককরোচ জনতা পার্টি আন্দোলনের ঘোষণা দেয়ার পরই আইনিভাবে সিইসি’র অপসারণের জন্য উঠেপড়ে লেগেছে কংগ্রেসসহ বিরোধীদলগুলো। জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের জন্য আনুষ্ঠানিক প্রস্তাব বা নোটিশ জমা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিরোধী জোট ইন্ডিয়া ব্লক। রাহুল-প্রিয়াংঙ্কা গান্ধী ছাড়াও, সমাজবাদী পার্টির অখিলেশ যাদব, বিজু জনতা দলের নবীন পাটনায়েক এবং পাঁচটি বামপন্থী দল– সিইসি’র পদত্যাগ দাবি তুলছেন প্রকাশ্যেই।




