জাতিসংঘের সাধারণ বিতর্ক পর্বের তৃতীয় দিনের মূল আকর্ষণ ছিল ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের প্রতিনিধিদের বক্তব্য। যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দিলেও যুক্তরাষ্ট্র ভিসা দেয়ায় জাতিসংঘের সদর দপ্তরে ভাষণ দিতে উপস্থিত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তবে বক্তব্যের মঞ্চে দাঁড়াতেই দুয়োধ্বনির মুখে ইসরাইলের ইতিহাসের সবচেয়ে বিতর্কিত নেতানিয়াহু। একে একে হল ছেড়ে বেরিয়ে যেতে থাকেন বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা। নতি স্বীকারের পরিবর্তে ওয়াকআউট করা দেশগুলোর প্রতিনিধিদের 'নৈতিক কাপুরুষ' আখ্যা দিয়ে বক্তব্যের শুরুতেই নিজের দম্ভের বহিঃ প্রকাশ করেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী।
দাবি করেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি থেকে বিরত রেখেছে ইসরাইল। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে মিলে ইসরাইল ইরানের সামরিক ও পরমাণু সক্ষমতা 'চূর্ণবিচূর্ণ' করে দিয়েছে বলেও দাবি করেন নেতানিয়াহু।
আন্তর্জাতিক মহল নিন্দা জানালেও কেন লেবানন ও গাজায় সামরিক অভিযান চালাচ্ছে তার পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন নেতানিয়াহু। দাবি করেন, হামাস, হিজবুল্লাহ, হুথিসহ মধ্যপ্রাচ্যে সাতটি ভিন্ন ফ্রন্টে যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। এছাড়াও, বক্তব্যে তুরস্কের বিরুদ্ধে ইহুদি-বিদ্বেষের অভিযোগও তুলেন নেতানিয়াহু। এরদোয়ানের বিরুদ্ধে ইসরাইল দখলের অভিযোগও তুলেন নেতানিয়াহু।
প্রায় আধা-ঘণ্টার বক্তব্যে নেতানিয়াহু জোহরান মামদানিসহ ইরান ও গাজার পক্ষ নেয়া বিশ্বনেতাদের তুলোধুনো করলেও প্রশংসায় ভাসান যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে। দাবি করেন, ট্রাম্পের চেয়ে বড় অংশীদার ইসরাইলে আর কেউ নেই।
এদিকে, বিতর্কের পাহাড়ের মধ্যেও নেতানিয়াহু সরাসরি ভাষণের সুযোগ পেলেও টানা দ্বিতীয়বারের মতো এই সুযোগ থেকে বঞ্চিত ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে গাজাবাসীর মুক্তির পক্ষে ফের একবার সোচ্চার তিনি। এসময় তিনি অভিযোগ তুলেন, পশ্চিম তীর ও পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমে ইসরাইলি দখলদাররা আগ্রাসন বাড়ানোয় সংকুচিত হচ্ছে ' দ্বি- রাষ্ট্রভিত্তিক' সমাধানের পথ।
ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বক্তব্যে কাঠগড়ায় তোলেন বিশ্ব সম্প্রদায়কে। ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজায় নজিরবিহীন মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হলেও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় কেন দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান বাস্তবায়নে উদ্যোগী হচ্ছে না এই প্রশ্ন তোলেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট।
অন্যদিকে, নেতানিয়াহু'র বক্তব্যের আগেই ইসরাইলবিরোধী বিক্ষোভে ম্যানহাটনে জাতিসংঘের সদর দপ্তরের সামনে জড়ো হন বহু ফিলিস্তিনপন্থী। এসময় ইসরাইলে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আহ্বান জানান বিক্ষোভকারীরা। আটক করা হয় মার্কিন অভিনেত্রী সুজান স্যারান্ডনসহ বেশ কয়েকজনকে।





