দুই বার দুই রকমের বক্তব্য দিয়ে ইকবাল হোসেন বলেন, ‘আমরা এবার ওই সমস্ত খরচগুলো আমরা বাফুফে থেকে নিজেরা বহন করব। এজন্য আশা করি যে গতবার যে প্রবলেমগুলো ফেস করছে, এবার অনেক প্রবলেমগুলো পাবে না। আর দ্বিতীয় বক্তব্য—আমরা সময়টা কিন্তু একটু কম পেয়েছি। আসলে খেলার উপযোগী করার জন্য আমরা যতটুকু পারছি চেষ্টা করছি।’
মাসের ব্যবধানে বাফুফে গ্রাউন্ডস কমিটি প্রধানের দুই রকমের বক্তব্যই হয়ত বলে দেয় দায়িত্ব পালনের শুরুতে ঠিক কতটা পিছিয়ে পড়েছে দেশি ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা। আরেকটা মৌসুম শুরু হয়ে গেলেও নিম্নমানের মাঠের অভিযোগ থেকে মুক্তি পাচ্ছে না বাংলাদেশ ফুটবল লিগ।
লিগের মাঠ বিবেচনায় বাকি সবার চেয়ে কিছুটা এগিয়ে মানিকগঞ্জের মিরাজ-তপন স্টেডিয়াম। কিন্তু, সেখানেও চারপাশের অবস্থা খুব একটা সুখকর না। ফেডারেশন কাপের ম্যাচের মাত্র দুইদিন আগেই স্থানীয় টুর্নামেন্ট থাকায় মাঠের অবস্থা ছিলো কিছুটা নাজুক।
খেলা শুরুর দুই ঘণ্টা আগে যেখানে সবার অবাধ প্রবেশ আর ছবি তোলার হিড়িকে মাঠের অবস্থা আরও খারাপ হওয়ার দশা। সঙ্গে ফুটবলারদের নিরাপত্তা শঙ্কা তো আছেই। জায়গায় জায়গায় ঘাস উঠে যাওয়া, গোলবারের কাছে অতিরিক্ত শুকনো মাটি ইনজুরির জন্য যথেষ্ট।
লিগের মাঠের এমন অবস্থা নিয়ে এখন টিভিকে নিজেদের হতাশার কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন ক্লাবের কর্মকর্তা এবং কোচরা।
চট্টগ্রাম সিটি এফসির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘লিগ যদি ভালো করতে চান, তাহলে আপনার মাঠটা একটু আগে ঠিক করতে হবে। মনে করেন আমরা হঠাৎ এখন ময়মনসিংহ যাচ্ছি, ময়মনসিংহের মাঠ কীভাবে কী, আমি কালকে ওখানে ম্যাচ খেলব আমরা এখনও মাঠটাও দেখি নাই।’
সিটি ক্লাবের স্বত্বাধিকারী মঈনুল হক বলেন, ‘যখন লিগ শুরু হয়, তার অনেক আগে থেকে আসলে এই বিষয়ে প্রস্তুতি নেয়া উচিত বলে আমি মনে করি ফেডারেশনের। আরও অ্যাক্টিভ হওয়া উচিত। মাঠে আমিও লক্ষ্য করলাম যে মাঠ অনেক কিন্তু হার্ড।’
দায়িত্ব নিয়েও এমনসব মাঠে খেলা আয়োজনের সমালোচনা করেছেন দেশি ফুটবলের সাবেক দুই জনপ্রিয় মুখ বিপ্লব ভট্টাচার্য এবং জাহিদ হাসান এমিলি। এমন মাঠে খেলে আন্তর্জাতিক শিরোপা জেতার স্বপ্ন দেখা বিলাসিতা বলেই মন্তব্য তাদের।
সাবেক ফুটবলার জাহিদ হাসান এমিলি বলেন, ‘প্লেয়াররা যদি একটা এনভায়রনমেন্ট না পায়, তাহলে তারা পারফর্ম করবে কোথায়? প্লেয়াররা যদি মন থেকে একটা ম্যাচ না খেলতে চায়, তো প্লেয়াররা পারফর্ম করবে কোথায়? আর আমি অনেক প্লেয়ারদের সঙ্গে ইন্ডিভিজুয়াল কথা বলেছি, তারা আসলে এই লিগটাকে এনজয় করছে না।’
সাবেক ফুটবলার বিপ্লব ভট্টাচার্য বলেন, ‘প্রত্যেকটা প্রফেশনাল ক্লাবের এমন মাঠ তৈরি করা উচিত, নিজস্ব যে মাঠগুলো থাকবে নিজেরা স্ট্যান্ডার্ডমাঠ থাকবে এবং এটা অবশ্যই মনিটরিং করবে বাফুফে।’
এসব অভিযোগের বিপরীতে আশ্বাসের বাণী শোনাতে কার্পণ্য করেননি বাফুফের গ্রাউন্ডস কমিটি প্রধান ইকবাল হোসেন।
বাফুফে গ্রাউন্ডস কমিটির প্রধান ইকবাল হোসেন বলেন, ‘২৫ তারিখের পর হয়তো একটা লম্বা বিরতি হবে। তো কথা দিচ্ছি, এই বিরতির মধ্যে আমরা সব মাঠগুলোকে আরও ডেভেলপমেন্ট করার চেষ্টা করব।’
গত কয়েক বছর ধরে বাংলাদেশ ফুটবল লিগের মাঠের পরিবেশ নিয়ে অভিযোগ ছিলো খেলোয়াড় থেকে শুরু করে কোচ, ক্লাব কর্মকর্তা, এমনকি খোদ বাফুফের কর্তাব্যক্তিদের। তবে এ বছর পরিস্থিতি কিছুটা বদলের আভাস মিলেছিল, কারণ বাফুফে বলেছিল তারাই মাঠের দেখভাল করবে। কিন্তু মানিকগঞ্জের এই মাঠ থেকে শুরু করে গাজীপুর কিংবা চাঁদপুরের মাঠগুলো নিয়ে অভিযোগ আসছে বারবারই। বাফুফে বলছে দুঃখিত, আরও কিছুদিন সময় দিন। কিন্তু এসব আশ্বাসের বাণী পেরিয়ে ঠিক কবে নাগাদ বাংলাদেশ ফুটবল লিগের মাঠগুলো সত্যিকারের লিগ পরিচালনার জন্য উপযুক্ত হবে, সেটাই এক বড় প্রশ্ন।





