চীনের প্রেসিডেন্টকে স্বাগত জানাতে ম্যারিল্যান্ডের সামরিক বিমানবন্দরে আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প। ১৯৬২ সালের পর এই প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ব্যক্তিগতভাবে এই ঘাঁটিতে একজন বিদেশি নেতাকে স্বাগত জানালেন। প্রায় ১১ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসলেন শি জিনপিং।
চীনের প্রেসিডেন্টকে বহনকারী বিমানটি অবতরণ করার সঙ্গে সঙ্গেই স্বাগত জানাতে স্ত্রীসহ এগিয়ে যান ট্রাম্প। বিমান থেকে নামার পর স্ত্রীদের পাশে রেখে দুই নেতা হাত মেলান। প্রচলিত প্রোটোকল ভেঙে বিমানবন্দরের রানওয়েতে ছুটে যান ট্রাম্প। লাল গালিচা সংবর্ধনা ও সামরিক মহড়ার মধ্য দিয়ে জাঁকজমভাবে বরণ করে নেয়া হয় শি জিনপিং ও তার স্ত্রী পেং লিইউয়ানকে। তোপধ্বনির পর বেজে উঠে দুই দেশের জাতীয় সংগীত। এসময় তাদের বিমান মাথার ওপর দিয়ে উড়ে যায় দু’টি বি-১ বোমারু বিমান।
ম্যারিল্যান্ড থেকে ট্রাম্প ও শি আলাদাভাবে ওয়াশিংটন ডিসির উদ্দেশে রওনা হন। চীনা প্রেসিডেন্টের তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষ হবে ২৫ সেপ্টেম্বর। সফরে শি জিনপিংয়ের সঙ্গী বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা। চীনের উপপ্রধানমন্ত্রী হে লিফেং ও জিনপিংয়ের ডান হাত হিসেবে পরিচিত কাই চিসহ আছেন আরও অনেকে। তবে এবার কোনো ব্যবসায়ী বা প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের কেউ তার সফরসঙ্গী হয়েছেন কিনা তা স্পষ্ট নয়।
আরও পড়ুন:
শি জিনপিংকে মহান নেতা আখ্যা দিয়ে তার আগমনকে ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে উল্লেখ করেছেন ট্রাম্প। এদিকে দু’দেশ প্রতিদ্বন্দ্বী না হয়ে অংশীদার হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন চীনের প্রেসিডেন্ট।
দুই নেতার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে পারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে শুরু করে কৃষিপণ্য, বিরল খনিজ, তাইওয়ান ও ইরান ইস্যু। রুদ্ধদ্বার বৈঠক হতে পারে শি জিনপিং ও ট্রাম্পের মধ্যে। এছাড়া মার্কিন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে অংশ নেবেন শি জিনপিং।
চীনা প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট জানান, নভেম্বরে শেষ হওয়া শুল্ক স্থগিতে বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ আগামী ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়াতে সম্মত হয়েছে দু’দেশ। এদিকে দু’দেশের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং বাণিজ্য নিয়ে চলমান মতপার্থক্যের বিষয়ে সমাধানের আশা করছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
এই সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত চীনের নাগরিকদের অনেক প্রত্যাশা রয়েছে। প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে স্বাগত জানাতে হোটেলের সামনে পতাকা হাতে উপস্থিত হন তারা। এদিকে হার্ভার্ডসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৯টি বিশ্ববিদ্যালয়ের শতাধিক শিক্ষার্থী চিঠি লিখেছেন চীনা প্রেসিডেন্টকে। চিঠির জবাবে শি জিংপিং লেখেন চীন-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপনে সহযোগিতায় আগ্রহী তিনি।





