ভাষণে ইরান ইস্যুতে সবচেয়ে কঠোর ও আক্রোশমূলক বক্তব্য তুলে ধরেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্যালাস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সুরক্ষার আড়ালে তেহরানের পারমাণবিক বোমা তৈরির চেষ্টা আমেরিকা থামিয়ে দিয়েছে দাবি করে তিনি বলেন, ইরানকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেওয়া হবে, নাকি আগামী নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিতব্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর তাদের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যাওয়া হবে—সে বিষয়ে তিনি ভাবছেন।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমি কি ইসলামিক রিপাবলিককে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেব? তাদের বেঁচে থাকার কোনো সুযোগ না দিয়ে নরকে ঠেলে দেব?’ তবে তিনি আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচনের পরপরই দুই পক্ষ চুক্তিতে পৌঁছাবে। তেহরান পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা ত্যাগ, বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা ও সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে সমর্থন বন্ধ না করা পর্যন্ত তাদের ওপর পূর্ণাঙ্গ বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপের আহ্বান জানান ট্রাম্প। গত বছর দায়িত্বে আসার পর পূর্ণ অর্থনৈতিক সহযোগিতার প্রস্তাব দিলেও ইরান তা প্রত্যাখ্যান করে বড় ভুল করেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
গাজা সংঘাত প্রসঙ্গে ট্রাম্প দাবি করেন, তার প্রশাসনের নেয়া পদক্ষেপের ফলেই গাজা যুদ্ধ শেষ হয়েছে এবং জীবিত ও মৃত সব জিম্মিকে উদ্ধার করে স্বদেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তার এ বক্তব্যের সময় অধিবেশন কক্ষে করতালি দেওয়া হয়। ইউক্রেন যুদ্ধও মানুষের ধারণার চেয়ে দ্রুত সমাধান হবে এবং তিনি রাশিয়া ও ইউক্রেনের নেতাদের সঙ্গে এ নিয়ে কাজ করছেন বলে জানান। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের দাম কমাতে ভেনেজুয়েলার সঙ্গে ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেলের বৃহত্তম চুক্তি সম্পাদনের কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার হাতে যৌথভাবে বিশ্বের ৬০ শতাংশের বেশি তেল রয়েছে।
ভাষণে কিউবাকে একটি ‘ব্যর্থ রাষ্ট্র’ অভিহিত করে ট্রাম্প বলেন, সেখানকার কমিউনিস্ট সরকারের পতন ঘটবে। ট্রাম্পের এ মন্তব্যের প্রতিবাদে কিউবার প্রতিনিধি দল অধিবেশন কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করে। ডেনমার্ক ও গ্রিনল্যান্ডের মানুষের সঙ্গে নজিরবিহীন চুক্তি সম্পাদন করে সেখানে দুটি বড় সামরিক ঘাঁটি গড়ার কথা তুলে ধরে ট্রাম্প বলেন, এটি ন্যাটো ও আমেরিকার উত্তর সীমান্তকে সুরক্ষিত করবে। এছাড়া নিজ দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের কারণে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে নিরাপদ সীমান্ত বিরাজ করছে বলেও দাবি করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) ‘নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া একটি অপরাধী প্রতিষ্ঠান’ আখ্যা দিয়ে সদস্যদেশগুলোকে তা বর্জনের আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট। তিনি স্পষ্ট করেন, মার্কিন কোনো সেনাসদস্যকে আইসিসির বিচারে সোপর্দ করতে দেওয়া হবে না। জাতিসংঘের ২০২৬ সালের বাজেট ১৫ শতাংশ ছাঁটাই করে চার হাজারের বেশি পদ বিলুপ্ত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সমুদ্র সংস্থার (আইএমও) শিপিং খাতের ওপর বৈশ্বিক কার্বন কর আরোপের চেষ্টা নস্যাৎ করার কথা উল্লেখ করে ট্রাম্প বলেন, তার মেয়াদে কোনো বৈশ্বিক কর সহ্য করা হবে না। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ন্ত্রণের আন্তর্জাতিক প্রয়াসকে প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, মার্কিন দাপ্তরিক নথিপত্রে এখন থেকে ‘কৃত্রিম’ শব্দের বদলে ‘সুপার ইন্টেলিজেন্স’ বা ‘এসআই’ ব্যবহার করা হবে।
—আল জাজিরার প্রতিবেদনে অবলম্বনে





