নওগাঁর চার উপজেলায় অফিসের সীমানা প্রাচীর সংস্কারে ১৬ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। সীমানা প্রাচীর সংস্কারের পর অবশিষ্ট অর্থ অন্যান্য মেরামত কাজে ব্যয় করতে পরিপত্রে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।
সে মোতাবেক তিন উপজেলায় বরাদ্দের যথাযথ ব্যবহার হলেও বদলগাছী উপজেলার সীমানা প্রাচীর সংস্কার না করে নামমাত্র রং-বার্নিশ করে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়রা জানান, কয়েক বছরের মধ্যে এ অফিসে কোনো প্রাচীর নির্মাণ ও সংস্কার করা হয়নি। অফিসের দুই পাশে সীমানা প্রাচীর না থাকায় অরক্ষিত ও অনিরাপদ অবস্থায় রয়েছে। নামমাত্র রং-বার্নিশ ছাড়া কোনো মেরামতের কাজ হয়নি।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘যেখানে প্রাচীর নির্মাণের জন্যই বরাদ্দ দেয়া হয়েছে, মানে প্রাচীর তো নির্মাণ হয় নাই এবং তার কাজের কোনো গতি দেখা যায় নাই। তো আমি শুনলাম যে বরাদ্দটা আসছিল, সম্ভবত সেটা নয়ছয় হয়েছে। না হলে তো অন্তত কাজের দৃশ্যমান কিছু দেখতে পাইতাম।’
অন্য একজন বলেন, ‘তো শুনলাম যে পরে রং-বার্নিশ করছে। তো রং-বার্নিশ করে চার লাখ টাকা খরচ করলো আসলে কীভাবে? টাকা কী হয়েছে, কোথায় কী করেছে আমরা বলতেই পারব না সেটা এখনো।’
আরও পড়ুন:
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. রিপা রানী। তিনি জানান, বরাদ্দের পুরো অর্থ অফিস মেরামত ও সংস্কার কাজে ব্যয় করা হয়েছে।
ডা. রিপা রানী বলেন, ‘আমাদের এটা প্রাচীর নির্মাণের বরাদ্দ না। এটা আমাদের হচ্ছে সংস্কার বাবদ বরাদ্দ। এই বরাদ্দ থেকে আমরা আমাদের সংস্কারের যেগুলো কাজ সেগুলো করে থাকি। প্রাচীর আমাদের যেহেতু হয়নি, আগের অর্থবছরেই আমি প্রাচীর নির্মাণ করেছি।’
অপরদিকে বরাদ্দের অর্থ অন্য উপজেলাগুলোতে যথাযথ ব্যবহার করা হয়েছে বলে জানান পত্নীতলা উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আশীষ কুমার দেবনাথ।
তিনি বলেন, ‘পেলাসাইটিং করা আছে পুকুরের জন্য, আর এক পাশটা পেছন দিকে পেলাসাইটিং নেই। আর বাকি অংশটা আমরা গত বছর যে রাজস্বের যে বরাদ্দ পেয়েছিলাম সেখান থেকে আমরা বাউন্ডারি ওয়ালটা কাভার করেছি।’
পরিপত্রে নির্দেশনা অনুযায়ী উপজেলা দপ্তরের কাজ সংশ্লিষ্ট জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা তদারকিসহ কাজ শেষে অধিদপ্তরে প্রতিবেদন দাখিল করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো প্রতিবেদন দাখিল করা হয়নি। তারপরও উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার পক্ষে সাফাই গাইলেন কর্মকর্তারা।
নওগাঁ জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের জেলা ট্রেনিং অফিসার ডা. গৌরাংগ কুমার তালুকদার বলেন, ‘মেরামত এবং সংস্কার কাজের জন্য। শুধু বাউন্ডারি ওয়াল বলে এটা কোনো এককভাবে না। বাউন্ডারি ওয়াল ক্ষেত্রে আমাদের বিভিন্ন নির্দিষ্ট প্রকল্প আছে, সেখানে প্রকল্প থেকে যেখানে বাউন্ডারি ওয়াল নাই ইতোমধ্যে আমাদের চাহিদা দেয়া হয়েছে।’
সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার না করে, নামমাত্র রং-বার্নিশ করে টাকা আত্মসাতের এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি স্থানীয়দের।





