পাইপলাইনে হামলায় বিপদে সৌদি: বড় ধরনের ধাক্কার আশঙ্কায় বৈশ্বিক জ্বালানি খাত

সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন
সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন | ছবি: সংগৃহীত
0

বিশ্ববাণিজ্যে ফাটল ধরেছে তেলের নিরাপত্তা বলয়ে। হামলার শিকার গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইন সচল করতে ঘড়ির কাঁটার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দৌড়াচ্ছে সৌদি আরব। বিভিন্ন সূত্রের তথ্য, বড়জোর আর এক সপ্তাহ রপ্তানিযোগ্য জ্বালানি তেলের মজুত আছে সৌদি আরবের। পাইপলাইনটি দ্রুত মেরামত না হলে, বড় ধরনের ধাক্কা লাগার অপেক্ষায় বৈশ্বিক জ্বালানি খাত।

সাময়িক বন্ধ বলা হলেও, ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনটি কবে নাগাদ সচল হবে, বলতে পারছে না সৌদি আরব। বৈশ্বিক তেল রপ্তানির পাঁচ শতাংশের উৎস এই একটি পাইপলাইন। তাই রিয়াদ ও মদিনায় ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের দু'টি পয়েন্টে, বৃহস্পতিবারের ড্রোন হামলা জ্বালানি খাতে আরেকটি বড় ধাক্কা।

লোহিত সাগর তীরবর্তী ইয়ানবু বন্দরের সাথে সৌদি আরব প্রধান তেলক্ষেত্রগুলো যুক্ত ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে। ফেব্রুয়ারিতে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধ শুরুর পর থেকে বন্ধ থাকা বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচল বন্ধ বলে, বিকল্প পথ হিসেবে ইয়ানবু হয়ে তেল সরবরাহ করছিল রিয়াদ। দিনে ৫০ লাখ ব্যারেল পর্যন্ত তেল সরবরাহ হচ্ছিল এখান থেকেই। ফলে ইস্ট-ওয়েস্টে চলমান অচলাবস্থায় বিশ্ববাজারে বড় ধরনের ঘাটতির শঙ্কা তীব্র হচ্ছে। ১০৮ ডলারে পৌঁছানো প্রতি ব্যারেল তেলের দামও শিগগিরই একশো ডলারের নিচে নামার সম্ভাবনা দেখছেন না বিশ্লেষকরা।

লন্ডনের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ কেট ডুরিয়ান বলেন, ‘বাজার খুললেই তেলের দাম আরও বাড়লেও অবাক হবো না আমি। প্রতি ব্যারেল তেলের দাম ১১০ ডলারেও পৌঁছে যেতে পারে। বা আরও বেশি বাড়লেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। পুরোটাই আসলে নির্ভর করছে পাইপলাইনটি কতোদিন বন্ধ থাকে, তার ওপর।’

বিভিন্ন সূত্রে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের খবর, পাঁচ থেকে ছয় সপ্তাহ সময় লেগে যেতে পারে ইস্ট-ওয়েস্ট সচল হতে। ভিন্ন সূত্রের দাবি, সময়টা আরেকটু কমও হতে পারে। কিন্তু শিল্প বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইয়ানবুতে যে পরিমাণ তেল মজুত আছে, তাতে বন্দরটি বড়জোর আর পাঁচ থেকে সাতদিন তেল রপ্তানি চালু রাখতে পারবে। মিশরের আইন সুখনা ও সিদি কেরিরে সৌদি আরবের সীমিত পরিমাণ অতিরিক্ত মজুত দিয়ে তেল সরবরাহ চলতে পারে হাতেগোণা আরও কয়েকটা দিন। কিন্তু তারপর কী? বলা হচ্ছে, এ সময়ের মধ্যে পাইপলাইনটি মেরামত করা না গেলে অচিরেই মজুত নামবে শূন্যে, বন্ধ হবে রপ্তানি, ঊর্ধ্বমুখী চাপ আরও প্রকট হবে তেলের দামে।

লন্ডনের জ্বালানি বিশেষজ্ঞ কেট ডুরিয়ান বলেন, ‘দিনে ৪০ লাখ ব্যারেলের বেশি তেল, যেটা তারা এতোদিন রপ্তানি করে আসছিল লোহিত সাগর দিয়ে, যদি সত্যিই সে পরিমাণে তারা ফিরতে না পারে, তাহলে উৎপাদন বন্ধ করে দেয়াও অসম্ভব নয়।’

বিভিন্ন যুদ্ধসহ নানা সংকটে বিশ্বব্যাপী তেলের মজুত এরই মধ্যে প্রায় একশো কোটি ব্যারেল কমে গেছে। এরপরে আবার মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে সরবরাহে নতুন করে বিঘ্ন দেখা দিলে তা সামাল দেয়ার মতো সক্ষমতা বাজারের হাতে এখন আগের তুলনায় অনেকটা কম।

এফএস