দ্রুত শক্তিশালী হয়ে উঠেছে এল নিনো, বিশ্বজুড়ে তীব্র দুর্যোগের আভাস

দাবানল নেভানোর চেষ্টা করছেন এক দমকলকর্মী
দাবানল নেভানোর চেষ্টা করছেন এক দমকলকর্মী | ছবি: সংগৃহীত
0

প্রশান্ত মহাসাগরের পানির তাপমাত্রা অস্বাভাবিক বৃদ্ধির ফলে বিশ্বজুড়ে আবহাওয়া বিপর্যয় সৃষ্টিকারী প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া এল নিনো অতি শক্তিশালী বা সুপার এল নিনো রূপে আত্মপ্রকাশ করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জলবায়ুবিষয়ক সংস্থা ন্যাশনাল ওশেনিক অ্যান্ড অ্যাটমোস্ফিয়ারিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (নোয়া) পূর্বাভাস অনুযায়ী, চলতি বছরের শেষ নাগাদ এটি ১৯৫০ সালের পর সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোতে পরিণত হওয়ার ৭৫ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। সিএনএনের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

নোয়ার পরিমাপক রেনি (রিলেটিভ ওশেনিক নিনো ইনডেক্স) অনুযায়ী, প্রশান্ত মহাসাগরের নিরক্ষীয় অঞ্চলের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ২.০ ডিগ্রি সেলসিয়াস (৩.৬ ডিগ্রি ফারেনহাইট) বেড়ে গেছে। তাপমাত্রা এই মাত্রায় পৌঁছালে সেটি অতি শক্তিশালী বা সুপার এল নিনো হিসেবে চিহ্নিত হয়। জলবায়ু পরিবর্তনের মূল প্রভাব বাদ দিয়ে এল নিনোর প্রকৃত শক্তি পরিমাপের জন্য নোয়া সম্প্রতি এই নতুন পদ্ধতি চালু করেছে।

অতি শক্তিশালী এই এল নিনোর প্রভাবে ইতোমধ্যেই বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়া লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘায়িত খরার কারণে ইন্দোনেশিয়ার পিটল্যান্ড বনে ভয়াবহ দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে। অন্যদিকে প্রশান্ত মহাসাগরে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ঝড় তৈরি হলেও বৈরী বাতাসের কারণে আটলান্টিক মহাসাগরে সামুদ্রিক ঝড়ের গতি বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে এবারের এল নিনো অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সংহারী রূপ নিতে পারে। এই প্রভাবের কারণে সমুদ্রের ওপর বাতাসের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় চলতি বছরের আগস্ট ছিল ইতিহাসের উষ্ণতম মাস। এই ধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে চরম তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হতে পারে, যা ২০২৬ বা ২০২৭ সালকে নতুন রেকর্ড ভাঙা উষ্ণতম বছরে পরিণত করতে পারে।

এএম