আ. লীগের পুরো শাসনামলের অপরাধের বিচার করতে হবে: এহসানুল মাহবুব

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের
এহসানুল মাহবুব জুবায়ের | ছবি: এখন টিভি
0

জুলাই অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের মৃত্যুদণ্ডের রায়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেছেন, আওয়ামী লীগের পুরো শাসনামলের অপরাধের বিচার করতে হবে।

আজ (মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর) রায়ের পর তিনি বলেন, ‘আজকের রায়ে জুলাই অভ্যুত্থানে শহিদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা কিছুটা হলেও সান্ত্বনা পাবেন। সাজাপ্রাপ্ত আসামিদের শাস্তি নিশ্চিত করতে জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দল সরকারের ওপর চাপ অব্যাহত রাখবে।’

এহসানুল মাহবুব জুবায়ের অভিযোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যর্থতার কারণে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনটি দেশে অপতৎপরতা চালাচ্ছে। রায়-পরবর্তী যেকোনো নাশকতা ঠেকাতে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে জামায়াত রাজপথে থাকবে বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রশাসনের চিহ্নিত দলবাজ কর্মকর্তাদের অপসারণ করা না হলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার ব্যর্থ হবে।’ এর আগে, ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২। আট মাস বিচারকাজ চলার পর মঙ্গলবার এ রায় ঘোষণা করা হয়।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অপর ছয় আসামি হলেন সাবেক তথ্য প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন নিখিল এবং নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালী আসিফ ইনান।

প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে ওবায়দুল কাদের ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু হওয়া কোটা সংস্কার আন্দোলন দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সশস্ত্র ক্যাডারদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছিলেন।

প্রসিকিউশনের দাবি, আসামিদের জ্ঞাতসারে ও সংশ্লিষ্টতায় সাধারণ জনগণের ওপর ব্যাপক ও পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি আন্দোলনকারী নিহত এবং ২৫ হাজারেরও বেশি মানুষ গুরুতর আহত হন।

প্রসিকিউশনের আরও অভিযোগ, আন্দোলনের সময় দলের সহিংস অবস্থান ও বিভিন্ন পদক্ষেপ নিতে বাহাউদ্দিন নাছিম সহায়তা করেছিলেন। সংবাদমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং হত্যা ও সহিংসতার খবর প্রচারে বাধা দেয়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন মোহাম্মদ আলী আরাফাত।

যুবলীগের নেতাকর্মীদের মাঠে নামানোর জন্য শেখ ফজলে শামস পরশ ও মাইনুল হোসেন নিখিলকে দায়ী করে প্রসিকিউশন। তাদের অভিযোগ, নিখিল নিজেও আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালিয়েছিলেন। অন্যদিকে, সশস্ত্র ক্যাডারদের জড়ো করা এবং হামলার সমন্বয়ের জন্য ছাত্রলীগের সাদ্দাম হোসেন ও শেখ ওয়ালী আসিফ ইনানকে দায়ী করা হয়েছে।

এএইচ