শঙ্কার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এআই; পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে জনঅসন্তোষ বাড়ছে

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতীকী চিত্র
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতীকী চিত্র | ছবি: রয়টার্স
0

মার্কিন রাজনীতিতে ক্রমেই বড় ইস্যু হয়ে উঠছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই)। প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তার যেমন নতুন সম্ভাবনা তৈরি করছে, তেমনই চাকরি হারানোর ভয়, বাড়তি বিদ্যুৎ বিল এবং ডেটা সেন্টারের পরিবেশগত প্রভাব নিয়ে বাড়ছে জনঅসন্তোষ। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা।

মানবজাতির জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সম্ভাব্য বিপদ নিয়ে সতর্ক করছেন খোদ প্রযুক্তি বিশ্বের শীর্ষ ব্যক্তিরা। এমন পরিস্থতিতে মার্কিন রাজনীতিতে এআই ক্রমেই গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠছে। দুই দলের প্রার্থীরাই এআই অবকাঠামো নিয়ে জনরোষকে কাজে লাগাচ্ছেন।

কেননা এআই নিয়ে মানুষের বিরোধিতা এখন শুধু প্রযুক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। সঙ্গে যুক্ত হচ্ছে নানা ধরনের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উদ্বেগও। অবশ্য মার্কিনদের মধ্যে এআই ব্যবহার বাড়লেও চলতি মাসে এনবিসি নিউজের জরিপ বলছে, এআই নিয়ে আশাবাদী হওয়ার চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন ৭০ শতাংশ মানুষ।

এছাড়া এআইয়ের কারণে তৈরি হয়েছে বিপুলসংখ্যক মানুষের চাকরি হারানোর আশঙ্কাও। পাশাপাশি ট্রাম্পের অর্থনীতির ওপরও মানুষের আস্থা কমেছে। ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ বিল এবং এর জন্য ডেটা সেন্টারগুলোকে দায়ী করার প্রবণতা মানুষের জীবনযাত্রার ক্রয়ক্ষমতার সংকট আরও বাড়াচ্ছে। আর এই সংকটই এবারের নির্বাচনে সবচেয়ে বড় ইস্যু।

আরও পড়ুন:

শুধু তাই নয়, অদূর ভবিষ্যত এআই গুটিকয়েক ধনকুব ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তার কুক্ষিগত হয় তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে বলে আশঙ্কা বিশেষজ্ঞদের। পাশাপাশি চীন কিংবা অন্য কোনো দেশ এআইয়ের উন্নত ভার্সন ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার হুমকির কারণও হয়ে উঠতে পারে।

উদ্ভূত এ পরিস্থিতিই নভেম্বরের মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচন এবং ২০২৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। ডেমোক্র্যাটরদের আশা, এআই নিয়ে মানুষের উদ্বেগকে রাজনৈতিক হাতিয়ার বানিয়ে নির্বাচনি লড়াইয়ে গতি তৈরি করতে পারবেন তারা।

অন্যদিকে, ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ নিয়ে মানুষের অসন্তোষের পাশাপাশি যদি এআই নিয়ে নতুন ইস্যু তৈরি হয়, তাহলে তা কোনোভাবেই স্বস্তিদায়ক নয় রিপাবলিকানদের জন্য।

তবে সব মিলিয়ে এআই নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এখন বড় প্রশ্ন— নিরাপত্তার জন্য এর গতি কমানো হবে, নাকি চীনকে পেছনে ফেলতে উন্নয়নের গতি আরও বাড়ানো হবে?’

এসএইচ