বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী বাংলাদেশে জন্মেছিলেন, তিনি শেখ হাসিনা: স্পিকার

জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ | ছবি: সংগৃহীত
0

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনা করে জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, বাংলাদেশে অভিনয়ের জন্য অনেক পুরস্কার দেয়া হয়। বিশ্বের সেরা অভিনেত্রী বাংলাদেশে জন্মেছিলেন, এত সুন্দর অভিনয় তিনি করেছেন।

আজ (শনিবার, ১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় ভোলার লালমোহন উপজেলায় বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের ফলে আওয়ামী লীগ এবং তাদের নেত্রী শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়েছেন। এমনকি দেশের প্রধান বিচারপতিও পালিয়ে গেছেন। মসজিদের ইমাম থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদে যারা ছিলেন, তাদের অনেকে পালিয়ে গেছেন। ১৭ বছর ধরে যারা বিভিন্ন পদে ছিলেন, তাদের অনেকেই পরে ক্যান্টনমেন্টে আশ্রয় নিয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘৬৮৭ জন পুলিশ কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্টে এসেছিলেন। পুলিশের অত্যাচারের কারণে বিভিন্ন জায়গায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল।’ ঢাকার যাত্রাবাড়ী এবং সিরাজগঞ্জের কয়েকটি থানার উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘কোথাও কোথাও জনগণ পুলিশের নাগাল পেয়ে তাদের মারধর করেছে এবং উল্টো করে ঝুলিয়ে রেখেছে।’

আরও পড়ুন

স্পিকার বলেন, ‘যারা ভুলে যায় যে আল্লাহ একজন আছেন, তিনি সবকিছু দেখছেন এবং একদিন সবাইকে মৃত্যুবরণ করতে হবে, তারাই ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারকে খুশি করতে গিয়ে নিজেদের স্বার্থে মানুষের ওপর অত্যাচার-নিপীড়ন করেছেন। এ কারণে প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে পিয়ন পর্যন্ত অনেকে পালিয়ে গেছেন।’

তিনি বলেন, ‘এসব ঘটনা থেকে বোঝা গেছে, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন আছেন। তিনি কাউকে ছাড় দেন, কিন্তু একেবারে ছেড়ে দেন না।’

গুম ও হত্যার অভিযোগ প্রসঙ্গে হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘বহু মানুষকে স্ত্রীর সামনে থেকে স্বামী হিসেবে এবং মায়ের সামনে থেকে সন্তান হিসেবে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। পরে তাদের হত্যা করে মরদেহ টুকরা টুকরা করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার অভিযোগও রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘এখন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বিভিন্ন ঘটনায় সাক্ষ্য দিতে মানুষ আসছেন। সেখানে অতীতে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনা উঠে আসছে, যেগুলো সাধারণ মানুষ আগে শুনতে পারেনি। কীভাবে মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, কীভাবে তাদের পরিবারের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে—সেসব বর্ণনা এখন পাওয়া যাচ্ছে।’

আরও পড়ুন

স্পিকার আরও বলেন, ‘এখনো বহু মা-বাবা অভিযোগ করছেন, তাদের সন্তানকে হত্যা করে কোনো ঘটনায় ফাঁসিয়ে দেয়া হয়েছে। এসব ঘটনার বিচার ও সত্য উদঘাটনের প্রয়োজন রয়েছে।’

এ প্রসঙ্গে তিনি এক নিখোঁজ ব্যক্তির পরিবারের সঙ্গে শেখ হাসিনার সাক্ষাতের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ‘যাকে হত্যা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল এবং পরে যাকে হত্যা করে টুকরা টুকরা করে নদীতে ভাসিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে, সেই ব্যক্তির স্ত্রী ও সন্তানরা যখন গণভবনে দেখা করতে আসতেন, তখন শেখ হাসিনা তাদের সঙ্গে এমন আচরণ করতেন যে, তিনি ওই পরিবারের শিশুদের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতেন এবং স্ত্রীকে বলতেন, ‘‘আমি তোমার স্বামীকে ফিরিয়ে আনব, তোমার বাবাকে ফিরিয়ে আনব’’।’

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘অথচ প্রকৃত ঘটনা তিনি জানতেন, স্বামী বা বাবা কোথায় গেছেন, তা তার অজানা ছিল না। বাংলাদেশে বহু মানুষ ক্ষমতায় এসেছেন, কিন্তু এমন অভিনয় কেউ করতে পারেননি।’

তিনি বলেন, ‘বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া তিনবার প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানও দেশের নেতৃত্ব দিয়েছেন। কিন্তু তাদের সময়ে মানুষের ওপর এ ধরনের অত্যাচার করা হয়নি।’

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, ‘গত ১৭ বছরের যে নির্মম কাহিনী তিনি মাত্র দুই-তিন মিনিটে তুলে ধরেছেন, তার পেছনে রয়েছে আরও অনেক ঘটনা। এই সময়ে কত মায়ের বুক খালি হয়েছে, কত পরিবার স্বজন হারিয়েছে, তার হিসাব বের করা প্রয়োজন।’

তিনি বলেন, ‘অতীতের এসব ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দেশের মানুষের অধিকার, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।’

জেআর