নিজেদের ক্ষমতার জানান দিতে রাশিয়া-ইউক্রেন পাল্টাপাল্টি হামলা যেন থামছেই না। এরইমধ্যে ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ধারাবাহিক হামলা চালিয়েছে পুতিন বাহিনী। এতে পাভলোহ্রাদে বেশ কয়েকজনের হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, বেসামরকিদের লক্ষ্য করেই এই হামলা চালিয়েছে মস্কো। এছাড়া দেশটির দোনেৎস্কের ক্রামাটর্স্ক শহর ও রাজধানী কিয়েভে রুশ বাহিনীর আরেক হামলায় শিশুসহ আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।
এরইমধ্যে কৃষ্ণসাগরে ইউক্রেনীয় সেনাবাহিনীর জন্য গোলাবারুদ বহনকারী জাহাজ ধ্বংস অব্যাহত রাখা হবে বলে সাফ জানিয়েছে ক্রেমলিন।
এই যখন অবস্থা, তখন রাশিয়াকে ঠেকাতে এবার কিয়েভকে ৩৫ কোটি ডলারের বিমান প্রতিরক্ষা সহায়তা প্যাকেজের ঘোষণা দিলো কানাডা। পাশাপাশি শত বছরের অংশীদারিত্বের ঘোষণা পত্রে স্বাক্ষর করেছে অটোয়া ও কিয়েভ। বৃহস্পতিবার কানাডা সফররত ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে বৈঠকের পর এক সংবাদ সম্মলনে এ ঘোষণা দেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
আরও পড়ুন:
জানান, রাশিয়ার নির্বিচারে বিমান হামলা প্রতিহত করতে ইউক্রেনকে এ সহায়তা দিচ্ছে তার সরকার। তবে কি ধরনের ইন্টারসেপ্টর সরবরাহ করা হবে কিংবা কবে থেকে এই সহায়তা শুরু হবে- তা নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানাননি কার্নি।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, ‘রাশিয়া নির্বিচারে বেসামরিক জনগণকে লক্ষ্য করে বর্বরোচিত বিমান হামলা চালাচ্ছে। ইউক্রেনের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আগের চেয়েও বেশি সংকটপূর্ণ। আর সে কারণেই আজ কানাডা ও ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রের জাম্প স্টার্ট মেকানিজমের অধীনে গুরুত্বপূর্ণ বিমান প্রতিরক্ষা ইন্টারসেপ্টর সরবরাহের জন্য একটি চুক্তি চূড়ান্ত করা হয়েছে।’
অন্যদিকে সম্মেলনে উপস্থিত জেলেনস্কি জানিয়েছেন রাশিয়ার নির্বাচনের আগে যুদ্ধ বন্ধে ত্রিপক্ষীয় কোনো বৈঠক হবে না। তবে যুদ্ধ ইস্যুতে কিয়েভ ও মার্কিন আলোচকরা নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন বলেও জানান তিনি।
এদিকে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করেই রাশিয়া ক্রমাগত হামলা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি-ইউএনডিপি। সংস্থাটির এক কর্মকর্তা বলেন, মস্কোর হামলায় কিয়েভের অর্ধেক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর এই ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬০ কোটি ডলার। তবে, পারমাণবিক স্থাপনা এবং এর আশপাশের সুরক্ষা কাঠামোতে হামলা চালালে লাখ লাখ বাসিন্দা নিরাপত্তা হুমকিতে পড়বে বলেও সতর্ক করেন এই কর্মকর্তা।




