‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’ ঘিরে শিয়া-সুন্নি মেরুকরণ; মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আশঙ্কা

মক্কায় ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর নেতাদের সঙ্গে কর্মকর্তারা
মক্কায় ত্রিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সইয়ের পর নেতাদের সঙ্গে কর্মকর্তারা | ছবি: আল জাজিরা
0

সৌদি আরবে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলার জবাবে 'মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি' কার্যকর হলে নজিরবিহীন আঞ্চলিক যুদ্ধ ছড়িয়ে পড়বে মধ্যপ্রাচ্যে। শক্তিশালী সুন্নি প্রধান দেশ পাকিস্তান ও তুরস্ক, সৌদি আরবের হয়ে লড়লে প্রক্সি গ্রুপকে রক্ষায় সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে ইরান। আর এটাই হবে, মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া-সুন্নি রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ।

রাজধানী সানা পুনরুদ্ধার এবং লোহিত সাগরের বাণিজ্যিক জলপথ বাব এল মান্দেবের সুরক্ষায় হুতিদের সঙ্গে সংঘাত চালিয়ে যাচ্ছে সৌদি সমর্থিত ইয়েমেন সরকার। জবাবে সৌদির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় চারটি গুরুত্বপূর্ণ শহর, আরামকোর তেল শোধনাগার ও বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে ইরান-সমর্থিত বিদ্রোহী হুতিরা।

উত্তাল পরিস্থিতিতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের অক্ষশক্তি বা প্রক্সি বাহিনী হুতিদের লাগাম টেনে ধরতে ইরানকে আহ্বান জানিয়েছে পাকিস্তান। সতর্ক করা হয়েছে, সৌদি আরবে হামলা অব্যাহত থাকলে কার্যকর করা হবে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি। ইসলামাবাদের কূটনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, সৌদি আরবে হামলায় তেহরানের পরোক্ষ সম্মতি আছে এবং হুতিদের অর্থ ও অস্ত্র সহায়তার সঙ্গেও জড়িত তারা।

যে কোনো সময় কার্যকর হতে পারে ‘মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি’

সামরিক জোট ন্যাটোর আর্টিকেল-৫ এর আদলে করা মক্কা চুক্তির বিশেষত্বই হচ্ছে, জোটের ৩ দেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক বা সৌদি আরবের যেকোনো একটির ওপর সশস্ত্র হামলা হলে বাকিরা সংঘাত কবলিত দেশটির সুরক্ষায় একযোগে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ এই বিষয়টিই উল্লেখ করে হুঁশিয়ার করেছেন রিয়াদে হামলা বন্ধ না হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ইয়েমেনে হুতিদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়ার সিদ্ধান্ত নেবে ইসলামাবাদ ও আঙ্কারা। আক্রমণাত্মক না হলেও আত্মরক্ষামূলক জোট হিসেবেই সক্রিয় হবে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তি।

আরও পড়ুন:

মক্কা চুক্তি সক্রিয় হলে নজিরবিহীন আঞ্চলিক যুদ্ধের শঙ্কা

বিশ্লেষকরা বলছেন, সৌদি আরবের পক্ষে পাকিস্তান ও তুরস্ক সরাসরি হুতিদের ওপর হামলা শুরু করলে তিন আঞ্চলিক পরাশক্তির এক যৌথ অভিযানে রূপ নেবে ইয়েমেন সংঘাত। জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেল, ইরানের ইরান ইন্টারন্যাশনাল এবং ইসরাইলি সংবাদপত্র হার্টজের বিশ্লেষণেও উঠে এসেছে এই তথ্য। ডয়েচে ভেলের দাবি, এই চুক্তির লক্ষ্যই ছিল ইরান ও ইসরাইলকে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক আধিপত্য বিস্তার থেকে বিরত রাখা। আর হার্টজের প্রতিবেদন, ইয়েমেনি প্রতিরোধ অক্ষ হুতিদের ওপর হামলা হলে শক্তিশালী সুন্নি প্রধান দেশ পাকিস্তান, তুরস্ক ও সৌদি আরবের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধরতে পারে ইরান।

শিয়া-সুন্নি রাষ্ট্রের চূড়ান্ত ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ

ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিয়ে যাওয়া সৌদি আরবে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলাকে বহুপাক্ষিক আঞ্চলিক যুদ্ধের বিস্তার হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন কোন কোন বিশ্লেষক। একে বলা হচ্ছে মুসলিম ন্যাটো বনাম ইরানের প্রক্সি বাহিনীর সংঘাত। আর এতে ইরান সরাসরি জড়িয়ে পড়লে মধ্যপ্রাচ্যে শিয়া-সুন্নি ভূ-রাজনৈতিক মেরুকরণ চূড়ান্ত রূপ নেবে বলেও শঙ্কা অনেকের।

যদিও, সৌদি আরবে হুতিদের সাম্প্রতিক হামলাকে গোষ্ঠীটির নিজস্ব সিদ্ধান্ত ও স্বাধীনতার প্রতিফলন হিসেবেই দেখছে ইরান। হুতিরা কারও কাছ থেকে নির্দেশ নেয় না এবং প্রক্সি বাহিনী হিসেবেও কাজ করে না বলে দাবি তেহরানের।

এফএস