চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে প্রতিদিন হাজার কোটি টাকার পণ্য আনা-নেয়া হয়। শুল্ক, কর, সার্ভিস চার্জ মিলে লেনদেন দাঁড়ায় প্রতিদিন গড়ে ৫০০ কোটি টাকা। নানা অসাধু চক্র মিলে জালিয়াতি, শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা, ওজন ও পণ্যের ধরনের হেরফের করে। এতে বড় অংকের রাজস্ব হারায় সরকার। সম্প্রতি এমন একটি চালান ধরা পড়ে কাস্টমসের হাতে। যেখানে কাদা ও সেফটি পিন ঘোষণায় চীন থেকে আনা হয় বিপুল পরিমাণ প্রসাধনী ও ইমিটেশনের গহনা।
ঢাকার চকবাজারের ফাতেমা এন্টারপ্রাইজ ১৫ হাজার কেজি মডেলিং ক্লে এবং আলপিন ও সেফটি পিন আমদানির ঘোষণা দেয়, যার ইনভয়েস মূল্য ১৫ হাজার ডলার। কিন্তু খালাসকালে দেখা যায়, এ দুটি পণ্য মাত্র ১ হাজার ৩০০ কেজি, যার শুল্ক কর ৬৪ শতাংশ। অথচ ঘোষণা বহির্ভূত বিভিন্ন প্রসাধনী ও ইমিটেশনের গহনা আছে ৫ হাজার কেজি, যার শুল্ক কর প্রায় দ্বিগুণ। কাস্টমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজস্ব ফাঁকি দিতে পরিকল্পিতভাবে মিথ্যা ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
সহকারী কমিশনার ও মুখপাত্র শরীফ আল আমিন বলেন, ‘যেকোনো ধরনের মিসডিক্লেয়ারেশনের ব্যাপারে আমাদের যে কর্মকর্তারা আছে, অফিসাররা প্রত্যেকেই অনেক সজাগ। প্রত্যেকেই অত্যন্ত নিবিড়ভাবে কাজ করে থাকে। এখানে আমরা একেবারেই জিরো টলারেন্স নীতিতে আমরা কাজ করে থাকি।’
আরও পড়ুন:
চালানটির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট আগ্রাবাদের জেরিন এন্ট্রারপ্রাইজ। কাস্টমসে দেয়া ঠিকানায় গিয়ে দেখা মিলে একজন আয়কর আইনজীবীর। তিনি জানান, জেরিন এন্টারপ্রাইজ ঠিকানা পরিবর্তন করেছে।
নতুন ঠিকানায় গিয়ে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টকে না পেলেও তিনি ফোনে জানান, মিথ্যা ঘোষণা দেয়া হলে তার দায় আমদানিকারকের। আমদানিকারকের মোবাইল নম্বর চাইলে তিনি সেটা দিতে অস্বীকৃতি জানান।
জেরিন এন্টারপ্রাইজ সিঅ্যান্ডএফের মাহবুবুর রহমান সাগর বলেন, ‘ডকুমেন্টের বাইরে তো আমাদের করার তো কিছু থাকে না। এখন আপনি আমাকে ডকুমেন্ট একটা দিলেন, আমি সাবমিট করলাম। এক্সামিন এসে দেখলাম যে এখানে আপনাদের কিছু অতিরিক্ত পণ্য আছে, তাহলে এটা কি আমি বলতে পারবো? বাট আপনি যে পাইছেন, ইম্পোর্টারের নাম্বারটা আপনি সেইভাবে কালেক্ট করে ফেলেন। শুধু শুধু তাহলে আমাকে আর উনার সঙ্গে করার দরকার কি?’
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, এ ধরনের ঘটনায় আমদনিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের যোগসাজশ থাকে। এর সঙ্গে কাস্টমস বা অন্যান্য সংস্থার যোগসূত্রও থাকতে পারে।





