ইরান সংঘাত শেষে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উপস্থিতি কমানোর আলোচনা, নতুন কৌশল খুঁজছে ওয়াশিংটন

সিরিয়ার রুমাইলানের উপকণ্ঠে টহল দিচ্ছে একটি মার্কিন সামরিক গাড়ি
সিরিয়ার রুমাইলানের উপকণ্ঠে টহল দিচ্ছে একটি মার্কিন সামরিক গাড়ি | ছবি: রয়টার্স
0

ইরান সংঘাতের অবসান ঘটলে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক ঘাঁটি ও সেনাসংখ্যা বড় আকারে কমানোর বিষয়ে অভ্যন্তরীণ আলোচনা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। দেশটির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের বরাতে সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

২০০১ সালের ৯/১১-এর সন্ত্রাসী হামলার পর দুই দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের যে স্থায়ী সামরিক কাঠামো গড়ে উঠেছিল, এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন হলে তাতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে। সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা থেকে শুরু করে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন বারবার মধ্যপ্রাচ্য থেকে সেনা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিলেও নানা বৈশ্বিক সংকটে তা বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি।

সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে পাল্টাপাল্টি সংঘাতের কারণে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা ঝুঁকি ও ভঙ্গুরতা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সৌদি আরব, জর্ডান, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও কাতারে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি এবং সিআইএর বিভিন্ন কার্যালয়ে ইরানের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৮ জন মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন। এর ফলে পেন্টাগনের পরিকল্পনাকারীরা এখন স্থায়ী ঘাঁটির বদলে কেবল নির্দিষ্ট মিশনভিত্তিক অস্থায়ী সেনা মোতায়েনের বিষয়টি বিবেচনা করছেন।

বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে দুই নম্বর বিমানবাহী রণতরিসহ প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনা অবস্থান করছেন। নতুন করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এড়াতে কিছু সামরিক স্থাপনা মাটির নিচে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। তবে পেন্টাগন ও সিআইএ কর্মকর্তারা মনে করছেন, যেসব অবকাঠামো ইরানের হামলায় ধ্বংস হয়েছে, সেগুলোর পুনর্নির্মাণে নতুন করে অর্থ বরাদ্দের আগে এ অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির বিষয়টি পুনর্মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

মার্কিন নৌবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা অ্যাডমিরাল ড্যারিল কডল জানান, বাহরাইনে অবস্থিত পঞ্চম নৌবহরের সদর দপ্তরে সেনা সদস্যরা এখনই ফিরে যাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘আমরা সেখানে দ্রুতই ফিরে যাচ্ছি না।’ ওয়াশিংটনের সামরিক কর্মকর্তারা মনে করছেন, নতুন পোস্ট-ওয়ার কৌশলের আওতায় মধ্যপ্রাচ্যের সুরক্ষায় আঞ্চলিক মিত্রদের ওপর দায়িত্ব বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব সামরিক কাঠামো সংকুচিত করা হতে পারে।

এএম