মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘সরকারি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে-এমন তথ্য পুলিশের কাছে ছিল। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরে পর্যবেক্ষণ করা হয়। তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পর দালাল চক্রের সদস্যদের একটি তালিকা তৈরি করা হয়। সেই তালিকার ভিত্তিতেই মঙ্গলবার পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সমন্বয়ে দুই হাসপাতাল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৩২ জনকে আটক করা হয়। পরে তাদের বিষয়ে বিস্তারিত যাচাই-বাছাই করা হলে দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।’
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতাল এলাকায় অবস্থান করে গ্রাম থেকে চিকিৎসার জন্য আসা অসহায় ও সাধারণ রোগীদের টার্গেট করতেন। বিভিন্নভাবে তাদের সঙ্গে সখ্য তৈরি করে উন্নত চিকিৎসা, দ্রুত পরীক্ষা-নিরীক্ষা কিংবা কম খরচে চিকিৎসার কথা বলে প্রলুব্ধ করা হতো। পরে রোগী ও তাদের স্বজনদের সরকারি হাসপাতালের বাইরে বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নিয়ে যেতেন তারা।
এতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও তাদের স্বজনরা একদিকে যেমন হয়রানির শিকার হন, অন্যদিকে প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়েরও অভিযোগ রয়েছে। বিশেষ করে জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে চিকিৎসার জন্য আসা অসহায় রোগীরাই এসব দালালের প্রধান টার্গেট বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, ‘দালাল চক্রের বিরুদ্ধে জেলা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সরকারি হাসপাতাল এলাকায় কোনো ধরনের দালালচক্রের তৎপরতা সহ্য করা হবে না।’





