রাতভর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন অংশে মুহুর্মুহু ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলা চালায় রাশিয়া। ভোরের আলো ফোটার আগেই কিয়েভ কেঁপে ওঠে বিস্ফোরণের শব্দে। রাতের আকাশে ধোঁয়ার বিশাল কুণ্ডলী। সঙ্গে সঙ্গেই আগুন ধরে যায় বেশ কয়েকটি বহুতল আবাসিক ভবনে।
রাতভর ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও বিমান হামলায় হতাহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বেশকিছু বহুতল আবাসিক ভবন। ধসে পড়েছে কয়েকটি ভবনের ছাদ। এসময় সেখানে আটকা পড়েন বাসিন্দারা। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে বেশকিছু স্থাপনা।
প্রাণভয়ে কিয়েভের বাসিন্দারা আশ্রয় নিয়েছেন ভূগর্ভস্থ মেট্রো স্টেশনে। বিস্ফোরণের শব্দ শোনার পরপরই হুড়োহুড়ি পড়ে যায় তাদের মধ্যে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করলেও, আতঙ্ক কাটেনি বাসিন্দাদের মধ্যে।
আরও পড়ুন:
চলতি সপ্তাহে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে পর পর বৈঠক করেন মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনার। তবে তাদের বৈঠকে আশানুরূপ কোনো ফল আসেনি। তাদের সফর ঘিরে রাজধানীতে তিন দিনের জন্য হামলা বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছিল দুই দেশ। মার্কিন প্রতিনিধি ফিরে যাওয়ার পরদিনই কিয়েভে হামলা জোরদার করলো রুশ বাহিনী।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টার পরও পাল্টাপাল্টি হামলা চালিয়ে যাচ্ছে রাশিয়া ও ইউক্রেন। রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের দাবি, ইউক্রেনের সামরিক কাজে ব্যবহৃত বন্দর, অবকাঠামো ও জাহাজে হামলা অব্যাহত রেখেছে তারা। জবাবে রুশ সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে হাজারের বেশি ড্রোন, রকেট লঞ্চার ধ্বংস করার দাবি করেছে ইউক্রেনীয় বাহিনী।
বিমানবন্দরে ড্রোন হামলার চেষ্টার অভিযোগে রাশিয়ার একটি দূতাবাস ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র বন্ধ করে দেয় জার্মানি। এই অভিযোগকে ভিত্তিহীন উল্লেখ করে সেন্ট পিটার্সবার্গে অবস্থিত জার্মান দূতাবাস বন্ধ করে দিচ্ছে রাশিয়া। আগামী ১৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে তাদের সব কার্যক্রম বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে মস্কো। এর জেরে দুই দেশের সম্পর্কে নতুন করে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা।




