বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক ‘আত্মার’: দীনেশ ত্রিবেদী

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী
সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী | ছবি: এখন টিভি
0

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কেবল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নয়, এটি আত্মার বলে মন্তব্য করেছেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, ‘খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বহু ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের গভীর অভিন্নতা রয়েছে।’

আজ (রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর দপ্তরে সৌজন্য সাক্ষাতে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী এ মন্তব্য করেন।

প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন, নজরুল বর্ষ উদযাপন, শিল্পী ও গবেষক বিনিময়, ধ্রুপদি সংগীত, লোকসংস্কৃতি, তরুণ প্রতিভা বিকাশ এবং সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘দুই দেশের মানুষের ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, লোক ঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর সেতুবন্ধনই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।’

সংস্কৃতিমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কোনো জাতির প্রকৃত পরিচয় তার সংস্কৃতি। সংস্কৃতি মানুষকে বিভক্ত করে না, বরং ঐক্যবদ্ধ করে।’ মোহাম্মদ রফি, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, অলকা ইয়াগনিক ও পণ্ডিত রবিশঙ্করের শিল্পকর্ম দুই দেশের কোটি মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে অনুরণিত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘শিল্প ও সংস্কৃতি সীমান্তের গণ্ডি অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়ের ভাষায় কথা বলে।’

চলমান নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশে আয়োজিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভারতের খ্যাতিমান নজরুল গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিবিদদের অংশগ্রহণের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান মন্ত্রী।

একই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন শাহ ও বাংলা লোকসংগীতকে দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ধর্মীয় উগ্রবাদ, অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণকে কার্যকর প্রতিরোধ হিসেবে উল্লেখ করে নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির চর্চা জোরদারে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।’

বৈঠকে দুই দেশের মধ্যে একটি ক্ল্যাসিক্যাল মিউজিক নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাবও দেয়া হয়। প্রাথমিক পর্যায়ে ভারত থেকে দুজন ধ্রুপদি সংগীতশিল্পীকে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানিয়ে কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাব দেন মন্ত্রী। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

সংস্কৃতিমন্ত্রীও দুই দেশের সম্পর্ককে ‘আত্মার সম্পর্ক’ হিসেবে উল্লেখ করেন।

বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংগীত ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে উল্লেখ করে হাইকমিশনার কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ায় আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। ওই আয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার আগ্রহও প্রকাশ করেন তিনি।

পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিয়মিত যৌথ অনুষ্ঠান আয়োজনের ওপর গুরুত্ব দেন দীনেশ ত্রিবেদী। দুই দেশের তরুণ মেধাবীদের জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ, রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম চালুর মাধ্যমে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও জোরদারের ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

বৈঠকে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম, সচিব ইয়াসমিন বেগম, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের একজন যুগ্ম সচিব এবং ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার ও ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

এএইচ