পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন কী এবং কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
স্থানীয়ভাবে কুহ-ই কোলং গাজ লা নামে পরিচিত এই স্থানটি রাজধানী তেহরান থেকে প্রায় ২২০ কিলোমিটার দক্ষিণে ইসফাহান প্রদেশে অবস্থিত। নাতাঞ্জ ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কেন্দ্র থেকে এটি মাত্র দুই কিলোমিটার দূরে। পেন্টাগনের গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, বাঙ্কার ধ্বংসকারী বোমার হাত থেকে রক্ষা পেতে গ্রানাইট পাথরের অন্তত ১০০ মিটার গভীরে অত্যন্ত সুরক্ষিতভাবে এই স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের আগের হামলায় ফোর্দো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের মূল পরমাণু অবকাঠামো ও সেন্ট্রিফিউজ তৈরির কারখানা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন এখন পর্যন্ত পুরোপুরি অক্ষত রয়েছে। ওয়াশিংটন ও তাদের মিত্রদের ধারণা, ক্ষতিগ্রস্ত পরমাণু কর্মসূচি পুনর্গঠন বা ইউরেনিয়াম প্রসেসিংয়ের জন্য ইরান এই ভূগর্ভস্থ সুড়ঙ্গগুলোকেই ব্যবহার করতে পারে।
ওয়াশিংটনের রাজনৈতিক বার্তা ও কৌশল
খার্গ দ্বীপে ইরানের তেল রপ্তানির ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রিত হয়, যেখানে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ট্যাংকার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই ঘটনার পরপরই ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনে কার কী নড়াচড়া হচ্ছে, তার সবই আমাদের জানা।’ তবে একই সঙ্গে ট্রাম্প এই সংঘাতকে কিছুটা খাটো করে দেখার চেষ্টা করছেন। এর আগের দিন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স দাবি করেছিলেন যে মধ্যপ্রাচ্যে কোনো সক্রিয় যুদ্ধ চলছে না।
তবে নাতাঞ্জের কাছে এই পাহাড়ে বোমাবর্ষণ করা হলে তা পুরো অঞ্চলে আবার পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ ডেকে আনবে বলে সতর্ক করেছে ইরানের খাতাম আল-আনবিয়া কেন্দ্রীয় সামরিক সদর দপ্তর। আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে মার্কিন প্রশাসন মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে জড়াতে চায় না। ফলে রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে এই হুমকিকে প্রধানত মনস্তাত্ত্বিক চাপ হিসেবে দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
ইরানের পরমাণু কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা
ইউরোপিয়ান কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনসের হিসাবে, আগে চালানো হামলায় ইরানের প্রায় ১৮ হাজার সেন্ট্রিফিউজ ও হলুদ গুঁড়ো তৈরির একমাত্র কারখানা ধ্বংস হয়ে গিয়ে থাকতে পারে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) প্রধান রাফায়েল গ্রোসি জানান, হামলা শুরুর আগে ইরানের কাছে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত সমৃদ্ধ করা প্রায় ৪৪০ কেজি ইউরেনিয়াম ছিল, যা দিয়ে অন্তত ১০টি পারমাণবিক ওয়ারহেড তৈরি সম্ভব।
তবে জর্জিটাউন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যপ্রাচ্য রাজনীতির অধ্যাপক নাদের হাশেমি আল জাজিরাকে বলেন, ‘এই মুহূর্তে ইরানের পরমাণু কর্মসূচির প্রকৃত অবস্থা ঠিক কী, তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন। ইউরেনিয়াম ৬০ শতাংশ থেকে অস্ত্র তৈরির উপযোগী ৯০ শতাংশে রূপান্তর করতে হলে সেন্ট্রিফিউজের প্রয়োজন। কিন্তু ইরানের সেই প্রযুক্তি বা যন্ত্রাংশ কতটা ধ্বংস হয়েছে, সে বিষয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা রয়েছে।’
হামলার পর থেকে ইরান আইএইএর সঙ্গে সব ধরনের সহযোগিতা স্থগিত করেছে। ফলে তাদের সংরক্ষিত ইউরেনিয়াম কোথায় ও কীভাবে আছে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য বিশ্বসংস্থার কাছেও নেই। অন্যদিকে তেহরান বরাবরই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিকে শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে এবং পিকঅ্যাক্স মাউন্টেন নিয়ে ওয়াশিংটনের কড়াকড়িকে যুদ্ধের অজুহাত হিসেবে উড়িয়ে দিয়েছে।





