কংস নদের ওপর ব্রিজে খুলবে পর্যটন-অর্থনীতির নতুন দুয়ার!

নৌকা দিয়ে নদী পারাপার করা হয়
নৌকা দিয়ে নদী পারাপার করা হয় | ছবি: এখন টিভি
0

নেত্রকোণার কংস নদের ওপর একটি ব্রিজ নির্মাণ হলেই চলাচলে দূরত্ব কমবে অন্তত ২৫ কিলোমিটার। ব্রিজটি নির্মাণ হলে সদরের সঙ্গে দুর্গাপুরের যাতায়াত যেমন সহজ হবে, তেমনি পর্যটন এবং অর্থনীতিতেও আসবে নতুন সম্ভাবনা। স্থানীয়রা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে চলাচলের এই দুর্ভোগ দ্রুত নিরসন করা হোক। আর ডেপুটি স্পিকার বলছেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুতই শুরু হবে ব্রিজের নির্মাণকাজ।

নেত্রকোণা ও দুর্গাপুর— দুই উপজেলার মাঝে ছোট্ট একটি নদী। পারাপারের একমাত্র ভরসা নৌকা। ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে শিক্ষার্থী কিংবা মুমূর্ষু রোগী, নদী পারাপারে কারোরই দুর্ভোগের শেষ নেই। অথচ এই নদীর ওপর একটি বীজ নির্মাণের দাবিতে কেটে গেছে দীর্ঘ ৫০ বছর।

নেত্রকোণা ও দুর্গাপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সড়ককে ডিউডুকুন এলাকায় কংস নদ পারাপারের এই দুর্ভোগ দীর্ঘদিনের। সদর থেকে শ্যামগঞ্জ হয়ে দুর্গাপুরের দূরত্ব ৫০ কিলোমিটার। অন্যদিকে নেত্রকোণার রাজুরবাজার থেকে দুর্গাপুরের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার। ব্রিজটি নির্মাণ হলেই দূরত্ব কমবে ২৫ কিলোমিটার।

স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘অনেক মানুষ গাড়ি নিয়া দুঃখ পায়। মানুষ মরে, নদীত পড়ে। অনেক ক্লান্তের মধ্যে আমরা আছি। ব্যবসা-বাণিজ্য করি। অন্যান্য ব্যবসা-বাণিজ্য আছে। গৃহস্থি কাজ আছে। গৃহস্থি কাজ করলেও তো আমরা এই ব্রিজের লাইগা অসুবিধা।’

স্থানীয়রা বলছেন, নদী পারাপারে অনেক দুর্ভোগ। বিশেষ করে রোগী পারাপারে দুর্ভোগের শেষ নেই। ২০১৯ সালে নদী পারাপারে একটি ফেরি চলাচল শুরু হলেও পড়ে থেকে নষ্ট হয়েছে। তাই ব্যবসা-বাণিজ্য ও যাতায়াত সবক্ষেত্রেই স্থায়ী একটি ব্রিজ দ্রুত নির্মাণের দাবি তাদের।

আরও পড়ুন:

দুর্গাপুরের বাসিন্দাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘যত দ্রুত ভাই ব্রিজটা যদি হয়, তা আমাদের যাতায়াত মানে অনেক ভালো হবে। ব্রিজটা হয়ে গেলে তো অনেক লোকের উপকার হতো।’

সড়ক ও জনপথ বিভাগ বলছে, সমীক্ষা যাচাই শেষ। ডিজাইন প্রস্তুত হলেই দ্রুত ডিপিপি প্রস্তুত করে ব্রিজের কাজ শুরু হবে। আর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার বলছেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে দ্রুতই ব্রিজের নির্মাণকাজ শুরু হবে।

নেত্রকোণা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, ‘পাঁচটা ব্রিজ ৩,৭০০ কোটি টাকার ব্যয়ে অনুমোদন হয়েছে। দেউডুকুনটাও প্রক্রিয়াধীন আছে। ইনশা আল্লাহ আমি প্রত্যাশা করছি, মানুষের যা আশা ব্রিজ দিয়ে নেত্রকোণা যাওয়া দুর্গাপুরের মানুষের, সরাসরি সেটা খুব সহসাই বছর দুই-তিনিকের মধ্যে ইনশা আল্লাহ সমাপ্ত হবে।’

নেত্রকোণা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. মোফাখ্খারুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের ডিজাইন প্রক্রিয়াধীন এবং প্রায় ফাইনাল স্টেজে আছে। ব্রিজের ডিজাইন ড্রয়িং ডিজাইন কমপ্লিট হলে আমরা দ্রুত এটা প্রজেক্ট সাবমিট করবো, ডিপিপি তৈরি করা হবে। ডিপিপি দ্রুত সাবমিট করলে আশা করি বর্তমান সরকার যেহেতু অনেক আন্তরিক যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষেত্রে এবং অতি তাড়াতাড়ি এটা প্রজেক্ট পাশ হবে বলেই আমি আশা... আশাবাদী।’

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর পর্যটনের অপার সম্ভাবনা থাকায় বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ দুর্গাপুর। তাই ব্রিজ নির্মাণসহ সড়ক যোগাযোগ উন্নয়নের দাবি স্থানীয়দের।

এসএস