নদীপথে বরিশাল যাওয়া ভোলাবাসীর কাছে এক দুঃখের গল্প। আর সড়কপথে বরিশাল যেতে নদীর ঘাটে দীর্ঘ অপেক্ষা, যানজট আর সময়ক্ষেপণ। কখনো ফেরি পেতে দেরি, কখনো অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ, আবার কখনো বৈরি আবহাওয়া বন্ধ হয়ে যায় নৌযান।
কৃষিপণ্য, মৎস্যসম্পদ, পরিবহনও নদী পারাপারের ওপর নির্ভর করতে হয়। বরিশাল হয়ে রাজধানীসহ বিভিন্ন অঞ্চলে যেতে সময় এবং পরিবহন ব্যয়ও বাড়ে। যোগাযোগের এই সংকট জেলার অর্থনীতিরও বড় বাধা।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমাদের যেই দাবি রয়েছে ভোলা-বরিশাল সেতু, সেটা বাস্তবায়ন হলে ভোলার যে সাংস্কৃতিক, শিক্ষা এবং চিকিৎসার যে সমস্যা, এ সমাধান সম্ভব হবে।’
অন্য একজন বলেন, ‘আমরা ৬৭ কিলোমিটার না, আমরা ২৫ কিলোমিটার পথেই দ্রুত যেতে চাই।’
ভোলার বাসিন্দা জোবায়ের রহমান বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে পুনর্বিবেচনা করে অ্যালাইনমেন্টটিকে আবার সঠিকভাবে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখার জন্য আমরা বিশেষভাবে অনুরোধ করছি।’
দীর্ঘদিনের ভোগান্তির মধ্যেও গত ২২ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভোলাকে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কে যুক্ত করতে রহমতপুর-হিজলা-মেহেন্দিগঞ্জ-ভোলা রুটে মহাসড়ক নির্মাণের উদ্যোগের ঘোষণা দেন। নতুন এই মহাসড়ক বাস্তবায়িত হলে জাতীয় সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হবে ভোলা।
সড়ক বিভাগ বলছে, প্রস্তাবিত এই রুটে প্রায় সাড়ে ২১ কিলোমিটার নতুন সড়ক নির্মাণ এবং রহমতপুর থেকে মেহেন্দিগঞ্জ প্রায় ৩৬ কিলোমিটার রাস্তা ১৮ থেকে ৩৪ ফুট করা হবে। নদী পারাপারে নির্মিত হবে একাধিক সেতু। যদিও নতুন মহাসড়ক বাস্তবায়নের সম্ভাব্যতা যাচাইসহ পুরো প্রক্রিয়া চার থেকে পাঁচ বছর লাগতে পারে বলেই বলছে সড়ক ও জনপথ বিভাগের কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন:
ভোলার সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাইদুর ইসলাম বলেন, ‘বরিশাল জেলার রহমতপুরের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বর্তমানে আছে। এই নেটওয়ার্কের সঙ্গে সরাসরি তাহলে ভোলা সংযুক্ত হয়ে যাবে। এটার জন্য আমরা কাজ করে যাচ্ছি এবং আমরা খুব দ্রুতই আমরা ডিটেইল সার্ভে থেকে শুরু করে অন্যান্য ডিজাইন-ড্রয়িং এই বিষয়গুলো এবং প্রকল্প প্রজেক্ট ফর্মুলেশনের কাজটি আমরা করবো।’
এদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নয়ন হলে যাতায়াত, কৃষিপণ্য ও মৎস্যসম্পদ দ্রুত পৌঁছাবে, আর ভোলার গ্যাস কাজে লাগিয়ে শিল্পকারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনাও বাড়বে বলছে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব গোলাম নবী আলমগীর।
তিনি বলেন, ‘এই নেটওয়ার্কের ফলে, এই রোড দিয়ে আমাদের গ্যাস বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য এটা ব্যবহৃত হবে এবং আমাদের দেশে ভোলায়ও গ্যাস বেসড ইন্ডাস্ট্রি হবে, যেটা আমরা দীর্ঘদিন দাবি জানাচ্ছি, আমরা ভোলাবাসীরা দীর্ঘদিন জানাচ্ছি।’
আর ভোলা-বরিশাল সেতুর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের পর প্রকল্পটি পিপিপির ভিত্তিতে বাস্তবায়নের জন্য মন্ত্রিসভা কমিটি নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে বলছেন ভোলা-১ আসনের সংসদ সদস্য ও তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আন্দালিভ রহমান পার্থ।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভোলা-বরিশাল সেতু হবে। বারবার প্রশ্ন করলে মানুষের মধ্যে কনফিউশন দাঁড়ায়। এখন ডিপিপি হবে এবং যারা ইন্টারেস্টেড, যারা পিপিপি করতে চায়, তাদের সঙ্গে সরকার কথা বলবে এবং ইনশাআল্লাহ ভোলা-বরিশাল সেতুর কাজ হবে।’
একদিকে নতুন মহাসড়কের ঘোষণা, অন্যদিকে পিপিপির ভিত্তিতে এগিয়ে থাকা ভোলা-বরিশাল সেতুর প্রকল্প। দু’টি উদ্যোগই ভোলার যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।




