পরে আজ (৪ সেপ্টেম্বর) সিআইডির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
গ্রেপ্তাররা হলেন— মো. রাকিবুল ইসলাম (৩০), আরিফুল ইসলাম আরজু (২৬), শেখ সাকির আহম্মেদ ও মিয়ানুল ইসলাম অয়ন (২৯)।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিং কার্যক্রমে দেশে ও দেশের বাইরে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন বেটিং ও জুয়া কার্যক্রমের তথ্য পাওয়া যায়। এসব ওয়েবসাইটের বিজ্ঞাপন বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রচার করে সাধারণ মানুষকে অনলাইন জুয়ায় প্রলুব্ধ করা হতো।
সিআইডি জানায়, এসব বেটিং ওয়েবসাইটে অংশগ্রহণের জন্য ব্যবহারকারীদের প্রথমে ‘টপ-আপ’ বা ডিপোজিট করতে হতো। এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব এবং ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেয়া হতো। অর্থ জমা হওয়ার পর ব্যবহারকারীর বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বেট মানি যুক্ত করা হতো, যা পরবর্তীতে জুয়ায় ব্যবহৃত হতো।
আরও জানানো হয়, এসব অবৈধ লেনদেনের জন্য ব্যবহৃত এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাবগুলো নিয়মিত পরিবর্তন করা হতো। দেশের বিভিন্ন প্রান্তের এজেন্টদের কাছ থেকে এসব নম্বর ও হিসাব সংগ্রহ করে টেলিগ্রামসহ নানা যোগাযোগমাধ্যমে বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো। পরবর্তীতে তা বেটিং সাইটে প্রদর্শন করা হলে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবহারকারীরা সেখানে অর্থ লেনদেন করতেন।
সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা নির্দিষ্ট কমিশন রেখে অবশিষ্ট টাকা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করতো বলে উল্লেখ করে সিআইডি জানায়, পরবর্তীতে বাইন্যান্সের মতো প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তা ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করা হতো বলে প্রাথমিক অনুসন্ধানে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, সাইবার মনিটরিং সেলে প্রাপ্ত তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ ও প্রাথমিক অনুসন্ধান শেষে সিআইডির পক্ষ থেকে পল্টন থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
জানা যায়, মামলাটির তদন্তে প্রাপ্ত তথ্য ও গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে সিআইডি চক্রের জড়িত অন্য সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ২ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ৯টা ৩০ মিনিটে খুলনা জেলার খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে চক্রটির ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরবর্তীতে গ্রেপ্তারদের অন্য সহযোগীদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা শেষে সিআইডির অভিযানকারী দলটি বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে সিআইডি কার্যালয়ে ফিরে যায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তাররা উল্লিখিত অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং পরবর্তীতে রিমান্ডের আবেদনসহ গ্রেপ্তারদের আদালতে পাঠানো হয়েছে বলেও সিআইডির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়।
এছাড়া বর্তমানে মামলাটির তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং তদন্তের মাধ্যমে অনলাইন বেটিং ও অর্থপাচার চক্রের মূলহোতাসহ দেশি-বিদেশি অন্যান্য সদস্যদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।





