ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলায় নিহত ৫, আহত নারী-শিশুসহ ৬৩

সিরিকে মার্কিন বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু মানুষ
সিরিকে মার্কিন বিমান হামলায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাড়িঘরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা কিছু মানুষ | ছবি: রয়টার্স
0

ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় সিরিক কাউন্টির কুহেস্তাক শহরে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছে ইরান। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও ৬৩ জন। আহতদের বেশির ভাগই নারী ও শিশু। আল-জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, আজ (বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর) ভোরে বিয়ের অনুষ্ঠানের সময় একটি বাড়িতে ‘বর্বর’ হামলা চালানো হয়। এতে ৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন বলে প্রথম দিকে তিনি জানিয়েছিলেন। ইরানের সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি জানিয়েছে, হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।

ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হোসেইন কারমানপুর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। বিদ্যুৎ ও টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।’

ইরানের রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ভবনের দেয়াল ও জানালা বিস্ফোরণে উড়ে গেছে। চারপাশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে ধ্বংসাবশেষ। সংগঠনটি কয়েকটি ছবিও প্রকাশ করেছে। সেখানে হাসপাতালে কয়েকজন শিশুকে চিকিৎসা নিতে দেখা যায়।

পরে সিরিক কাউন্টির গভর্নর রেজা শহিদিয়ান রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবিকে বলেন, হামলায় ৬৩ জন আহত হয়েছেন। আহত ও নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০ জন নারী ও শিশু। তিনি বলেন, আহত সবাইকে কাছের মিনাব শহরের একটি হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তাদের অবস্থা ‘স্থিতিশীল’।

আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা ফার্স একটি শিশুর বক্তব্যও প্রকাশ করেছে। বিস্ফোরণ থেকে বেঁচে যাওয়া ওই শিশু জানায়, অনুষ্ঠানস্থলে যাওয়ার আগে সে যুদ্ধবিমান উড়তে শুনেছিল।

শিশুটি বলে, ‘আমরা সেখানে পৌঁছানোর পর বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণটি খুব শক্তিশালী ছিল। ইট, পাথর ও সিমেন্টের টুকরা আমার মুখ ও মাথায় আঘাত করে। আরও অনেকে আহত হয়। সবাই সাধারণ বেসামরিক মানুষ ছিল।’

এদিকে ইরানের অভিযোগের আগে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছিল, ইরানের ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ নতুন করে হামলা চালানো হয়েছে। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার চেষ্টা করা হয়েছিল বলে দাবি করে এই হামলা চালানোর কথা জানায় যুক্তরাষ্ট্র।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী বলেছে, ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার ব্যবস্থা, সামুদ্রিক সামরিক সরঞ্জাম ও স্থাপনা, মাইন পাতা এবং যোগাযোগব্যবস্থার বিভিন্ন স্থাপনা হামলার লক্ষ্য ছিল।

সপ্তাহান্তে দুই পক্ষের মধ্যে হামলা-পাল্টা হামলার পর নতুন করে এই হামলা চালানো হলো। হরমুজ প্রণালি নিয়েও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ইরানে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকে ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ অবরোধ করে রেখেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা পাল্টা জবাব হিসেবে জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটি ও স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। কুয়েতও ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের পদক্ষেপ দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, ‘এই নিষ্ঠুরতাকে এর আগে ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনাগুলোর ধারাবাহিকতা থেকে আলাদা করে দেখা যায় না।’ এ সময় তিনি যুদ্ধের প্রথম দিনে মিনাব ও লামের্দ শহরে হামলার কথা উল্লেখ করেন।

ইরানের দাবি অনুযায়ী, মিনাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর হামলায় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৫০ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। লামের্দে একটি ক্রীড়া হলে হামলায় অন্তত ২১ জন নিহত হন।

বাঘাই বলেন, ‘ইরান এসব বর্বর অপরাধের জবাব দৃঢ়ভাবে দেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেসব সরকার ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান এমন বর্বরতার সামনে নীরব থাকে বা এসব কর্মকাণ্ডকে ন্যায্যতা দেয়, তাদের বুঝতে হবে, তাদের নীরবতা নিরপেক্ষতা নয়।’

কুহেস্তাক ছাড়াও আধা সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, ইরানের আরও কয়েকটি উপকূলীয় শহরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব শহরের মধ্যে রয়েছে কোনারাক, বান্দার আব্বাস, জাস্ক, আসালুয়েহ ও আহভাজ। কেশম দ্বীপেও বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে

এএম