হাটচন্দ্রা পলাশতলা এলাকায় প্রায় ২ শত পরিবারের আট শতাধিক লোকের বসবাস। চলাচলের ইটের সোলিং করা একমাত্র সড়ক সারা বছর পানির নিচে তলিয়ে থাকে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই পানি উঠে। কোন যানবাহন না চলায় শিক্ষার্থীদের স্কুলে যাতায়াত এবং জরুরি রোগী পরিবহনে ব্যাপক ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হওয়া সত্বেও ন্যূনতম নাগরিক সেবা পাচ্ছেন না কেউ।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানান, চারপাশে পানি থাকায়— স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসাও কেউ অসুস্থ হলেও এখানে গাড়ি আসে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, গত চার বছর যাবত জলাবদ্ধতায় ভুগছেন তারা। রান্নাবান্না, খাবারদাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি ও টয়লেটের সমস্যাতো রয়েছেই। এলাকায় কোনো মানুষ মারা গেলে তার জানাজাও করা যাচ্ছে না। বছরে ৬ থেকে ৮ মাস জলাবদ্ধতা থাকায় জমা ময়লা পানিতে প্রতিনিয়ত চলাফেরা ও সাংসারিক কাজ করায় তাদের হাত পায়ে ঘা, ঠাণ্ডা, জ্বরসহ নানাবিধ পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত নারী ও শিশুসহ সব বয়সী মানুষ ।
স্থানীয় এলাকাবাসীরা জানান, সুপেয় পানি পানে বড় সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নির্বাহী প্রকৌশলী জানান, পৌর এলাকায় জলাবদ্ধতা এরই মধ্যেই চিহ্নিত করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতেই কাজ করছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যেই সমাধানের আশা তার।
জামালপুর পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জহুরুল হক বলেন, ‘বিভিন্ন জায়গায় কেটে পাইপ কালভার্ট দিয়ে আমরা পানি বের করতেছি। তাছাড়া স্থায়ীভাবে সমাধানের জন্য আমাদের একটা প্রকল্প চলতেছে। সেটা আনসার ক্যাম্প থেকে আরম্ভ করে ব্রহ্মপুত্র নদী পর্যন্ত। এ কাজটা হয়ে গেলে আশা করি জলাবদ্ধতা অনেকটা, অনেকাংশে কমে যাবে।’
জমে থাকা দীর্ঘদিনের ময়লা পানি মাড়িয়ে দৈন্দদিন কাজ করায় বিভিন্ন পানিবাহিত রোগ হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এ থেকে নিরাপদ ও সুস্থ্ থাকতে বিভিন্ন ধরনের পরামর্শ দিচ্ছে বলে জানান এ কর্মকর্তা।
জামালপুর সদর হাসপাতালের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আজিজুল হক বলেন, ‘অপ্রয়োজনে পানিতে তারা নামবে না। নিকটস্থ যে হাসপাতাল আছে, সে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তারা চিকিৎসা সেবা নেবে এবং ওষুধ ব্যবহার করবে। এখানে নিরাপদ পানি ব্যবহার করবে। প্রয়োজনে তারা পানি ফুটিয়ে পান করবে। সাবান দিয়ে সবসময় হাত পরিষ্কার করবে।’
দেড়শ বছরের পুরনো জামালপুর পৌরসভায় বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা একটি বড় ধরনের সমস্যা। পৌরসভা সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমে ড্রেনেজ ব্যবস্থার মাধ্যমে পানি নিষ্কাশন করে জলাবদ্ধতা নিরসন করবে- এমনটাই প্রত্যাশা সবার।




