ব্র‏হ্মপুত্রের ভাঙনে বিলীন ঘরবাড়ি-ফসলি জমি, গৃহহীন অসংখ্য পরিবার

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নিঃস্ব এক বৃদ্ধা
ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নিঃস্ব এক বৃদ্ধা | ছবি : এখন টিভি
0

ময়মনসিংহে ব্র‏হ্মপুত্র নদের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি, সড়ক, গাছপালা ও বিস্তীর্ণ ফসলি জমি। এতে গৃহহীন হয়ে পড়েছে তিন উপজেলার অসংখ্য পরিবার। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, ভাঙ্গন প্রতিরোধে অস্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ চলছে, তবে দ্রুত স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

ব্রহ্মপুত্রের ভাঙনে নিঃস্ব গৌরীপুর ভাঙনামারির খোদাবক্সপুর গ্রামের ষাটোর্ধ বিধবা মিলিক জান। জীবন-জীবিকার একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে এখন শুধুই নদের পাড়ে বসে ফেলেন চোখের জল। তিনবার ভিটেমাটি সব গেছে নদীর পেটে, শেষ সম্বলটুকুও বিলীন হওয়ার পথে।

ভুক্তভোগী মিলিক জান বলেন, ‘আমার একটা নাতনি ছিলো, গোরু-বাছুর বেইচা ট্রাবজার করছি, কিচ্ছু নাই আমার। ও বাজারে গেছে, আমার কিচ্ছুই নাই।’

তার মতো ব্রহ্মপুত্র পাড়ের হাজারো মানুষের গল্প একই। এক সময়ে গ্রামের বড় গেরস্থ অনেকেই এখন ভাঙনের কবলে পরে নিঃস্ব। ক্ষতিগ্রস্তদের অনেকেই ঠাঁই নিয়েছেন অন্যের বাড়িতে। মানবেতর জীবনযাপন করলেও মিলছে না কোনো সহায়তা। ভাঙন ঠেকাতে দ্রুত উদ্যোগ না নিলে অসংখ্য ঘরবাড়ি-ফসলি জমি এবং চলাচলের সড়ক বিলীন হয়ে যাবে নদীতে। অস্থায়ীভাবে ভাঙন প্রতিরোধে মাঝে মাঝে কিছু জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কোনো কাজে আসে না বলে জানান ভুক্তভোগীরা। ভাঙনরোধে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি তাদের।

এলাকাবাসীরা জানান, নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে তাদের ভিটে-মাটি। সহায় সম্বল হারিয়ে নিঃস্ব এলাকাবাসী।

এদিকে নাগরিক নেতারা বলছেন, নদী থেকে যত্রতত্র বালু তোলার ফলে বদলে যাচ্ছে নদের গতিপথ, যার খেসারত দিচ্ছেন নদীপাড়ের মানুষেরা।

আরও পড়ুন:

ময়মনসিংহ নাগরিক সমাজের সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘প্রথম কারণ হলো যে এই বালু উত্তোলন অবাধে এবং প্রশাসনের সহযোগিতায় যদি আপনার দেখা যায় যে, মাত্রাতিরিক্ত বালু উত্তোলন করা হচ্ছে; তাহলে আপনার এ ধরনের ভাঙন ঘটবে।’

নদী ভাঙনে অবৈধ বালু উত্তোলনকে দায়ী করে জেলা প্রশাসক জানালেন, ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসন করা হবে। আর পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে তাদের।

ময়মনসিংহের জেলা প্রশাসক সাইফুর রহমান বলেন, ‘গত তিন মাস আগে আমরা বড় দুইটি অভিযান পরিচালিত করেছি। সেখানে ৪৭টি ড্রেজারকে আমরা নষ্ট করেছি। প্রশাসনিক একটি অভিযান সেটি চলমান আছে। আমরা বিভিন্ন উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ আমরা জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়মিত অভিযান পরিচালিত করছি। আমাদের স্থানীয় যে সংসদ সদস্য আছেন, উনিও এ বিষয়ে কঠোরভাবে মনিটর করছেন।’

ময়মনসিংহ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী শামীম হাসনাইন মাহমুদ বলেন, ‘অষ্টধার ইউনিয়ন এবং সেনের চর, ঝাপারকান্দা এসকল জায়গায় আমাদের স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। গৌরীপুরের খোদা বক্সপুর যে গ্রামটা, ভাঙনামারী ইউনিয়ন সেখানেও আমাদের পরিকল্পনা রয়েছে যে ব্লগ দ্বারা স্থায়ী প্রতিরক্ষা কাজ করার।’

ময়মনসিংহের গৌরীপুরের উজান কাশিয়ার চর, খোদাবক্সপুর, ভাটিপাড়া, ঈশ্বরগঞ্জের মরিচারচর, বটতলা এবং সদর উপজেলার অষ্টধার, চর দড়িকুষ্টিয়া, সেনের চর ও ঝাপারকান্দা এলাকায় ব্রহ্মপুত্র নদের প্রায় ৩ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে ভাঙনের তীব্রতা বেশি।

এফএস