ইরানকে হুমকি দেয়ার মাঝেই নতুন আলোচনার আভাস ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প | ছবি: র‍য়টার্স
0

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন যে, মাসের পর মাস অচলাবস্থার পর মঙ্গলবার প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তারা এক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন। তবে এ আলোচনার খবর জানানোর পাশাপাশি জাতিসংঘে দেয়া ভাষণে তিনি ইরানকে পুরোপুরি ‘ধূলিসাৎ’ করবেন কি না, তা নিয়ে এখনও ভাবছেন বলেও উল্লেখ করেন।

জাতিসংঘ থেকে এএফপি জানায়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাকচি নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জ্যারেড কুশনারের সাথে এক বৈঠকে অংশ নেন।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান ও জনমনে অসন্তোষ তৈরি করা যুদ্ধকে কেন্দ্র করে জাতিসংঘে কড়া ভাষায় ভাষণ দেন ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প। একই সাথে হুমকি ও টোপ দেয়া নীতির অংশ হিসেবে দেওয়া ভাষণের সময় ইরানের প্রতিনিধি দলের একজন ছাড়া বাকি সবাই সভাকক্ষ ত্যাগ করেন।

ভাষণে ট্রাম্প বলেন, 'আমাকে একটি বড় সিদ্ধান্ত নিতে হবে, ইরানের সাথে কি এমন কোনো চুক্তি হবে যা তাদের ঘুরে দাঁড়াতে এবং আরও শক্তিশালী দেশ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে? নাকি আমি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রটিকে দ্রুত ধূলিসাৎ করে দেব, যাতে তারা আর কখনো অন্য কোনো দেশ বা মানুষকে ধ্বংস করার সুযোগ না পায়? আমি কি তাদের এমন এক নরকে নিক্ষেপ করব যেখান থেকে ফেরার কোনো পথ থাকবে না?'

ট্রাম্প বিশ্বাস করেন যে, আগামী নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই ইরান চুক্তিতে আসবে। উল্লেখ্য, এই যুদ্ধের কারণে মার্কিন অর্থনীতিতে যে ধাক্কা লেগেছে, তার ফলে মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে।

এদিকে, বুধবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের। ভাষণ শেষ করার পরপরই ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান যে, জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বৈঠক করেছেন।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে সাক্ষাতের সময় ট্রাম্প বলেন, ‘তাদের মধ্যে খুব ভালো ও ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে এবং খুব শিগগিরই পরবর্তী বৈঠকের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।’

পরবর্তীতে জাতিসংঘের অন্যান্য আরব নেতাদের সাথে বৈঠকের সময় ট্রাম্প আরও যোগ করেন, ‘আমার মনে হয় একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর জন্য দুই পক্ষই বেশ আন্তরিক, চারপাশের সবার কাছ থেকে আমরা সেটাই শুনছি।’

ইরানি গণমাধ্যমের সূত্রমতে, বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ পুনরায় উন্মুক্ত করার জন্য মার্কিন দূত উইটকফের কাছে বেশ কিছু শর্ত তুলে ধরেছেন আরাকচি।

ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদসংস্থা আইআরআইবি (ওজওই) জানায়, তেহরানের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে- অবিলম্বে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার করা, ইরানের ফ্রিজ বা অবরুদ্ধ করে রাখা সমস্ত অর্থ দ্রুত ফেরত দেওয়া এবং প্রতিরোধ যোদ্ধাদের বিরুদ্ধে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ করা।

মঙ্গলবার রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন দূত উইটকফ জানান, মধ্যস্থতাকারীরা সারাদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে যাতায়াত করেছেন। আমরা আলোচনার একটি ধাপ সফলভাবে শেষ করেছি যা ইতিবাচক ও আশাবেঞ্জক হবে বলে আশা করি। মধ্যস্থতাকারীরা তাদের কাজ চালিয়ে যাবেন।

এএইচ