গেল জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলা মাদুরোকে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর কারাকাসের তেল ভাণ্ডারের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার ইচ্ছা কখনোই গোপন করেননি ট্রাম্প। তৎকালীন ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজকে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধানের দায়িত্ব পালনের সুযোগ দেয়া হলেও, শর্ত ছিল তাল মেলাতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সঙ্গে।
শেষ পর্যন্ত সফল হয়েছেন ট্রাম্প। ভেনেজুয়েলার তেলসম্পদের বড় একটি অংশের নিয়ন্ত্রণ যুক্তরাষ্ট্রকে দেওয়ার বিষয়ে ঐতিহাসিক চুক্তিতে পৌঁছেছে দুই দেশ। বেসরকারি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে অংশীদারিত্বের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান ডেলসি রদ্রিগেজের সঙ্গে এই চুক্তির আলোচনা সেরে ফেলেছন ররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
চুক্তির ফলে ভেনেজুয়েলায় সাড়ে ৬ হাজার কোটি ব্যারেল তেলের মজুদ চলে যাবে যুক্তরাষ্ট্রের দখলে। একে বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেলচুক্তি আখ্যা দিয়ে ট্রাম্প বলছেন, চুক্তি কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রের তেলের মজুত বাড়বে দ্বিগুণেরও বেশি।
আরও পড়ুন:
আর মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঘোষণা, চুক্তির ফলে ১০ হাজার কোটি ডলারের বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে ভেনেজুয়েলায়। দেশটির অন্তর্বর্তী সরকার প্রধানও আশা করছেন, ১৭টি তেলক্ষেত্রে উত্তোলন শুরু হলে কারাকাসের কোষাগারে জমা পড়বে ২০ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের রাজস্ব।
গেল বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস জানিয়েছিল, দুই দেশ ১২টি উৎপাদনশীল তেলক্ষেত্র নিয়ে আলোচনা করছে। এসব তেলক্ষেত্রে প্রায় ৯ হাজার কোটি ব্যারেল তেল মজুদ আছে। যা ভেনেজুয়েলার মোট ৩০ হাজার কোটি ব্যারেল তেলসম্পদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। আর এমন একটা সময়ে এই চুক্তি হতে যাচ্ছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে কৌশলগত পেট্রোলিয়াম মজুত প্রায় ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।





