সহজ ভাষায়, এজিআই হলো এমন এক ধরনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, যা মানুষের মতোই যেকোনো বুদ্ধিবৃত্তিক কাজ বুঝতে, শিখতে ও সম্পন্ন করতে সক্ষম। বর্তমানে ব্যবহৃত চ্যাটজিপিটির মতো এআইগুলো নির্দিষ্ট কাজে পারদর্শী হলেও এজিআই হবে এমন একটি ব্যবস্থা, যা মানুষের সমান বা তার চেয়ে বেশি দক্ষতায় অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক প্রায় সব কাজ করতে পারবে। তবে এমন উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যের ঘোষণার পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ইতিহাসে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা ত্রুটির তথ্যও প্রকাশ্যে এসেছে।
সাময়িকী টাইমকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বলেন, ‘২০২৬ সাল শেষ হওয়ার আগেই তাদের অভ্যন্তরীণ এমন একটি প্রযুক্তি তৈরি হয়ে যাবে যা এজিআইয়ের সংজ্ঞা পূরণ করবে। ওপেনএআইয়ের চিফ রিসার্চ অফিসার মার্ক চেনের দাবি, তারা এজিআই অর্জনের ৮০ শতাংশ পথ ইতিমধ্যে অতিক্রম করেছেন। সহ-প্রতিষ্ঠাতা গ্রেগ ব্রকম্যানের মতে, দুই বছর পর মানুষ হয়তো এই সময়টিকে এজিআই জন্মের মুহূর্ত হিসেবে মনে রাখবে।
ওপেনএআইয়ের প্রধান বিজ্ঞানী ইয়াকুব পাচোকি জানান, তাদের নতুন মডেল আস্ট্রা ইতিমধ্যে স্বয়ংক্রিয় গবেষণা সহকারীর মানদণ্ড পূরণ করেছে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোড তৈরি, পরীক্ষা চালানো এবং গবেষণাপত্র পর্যালোচনার মতো জটিল কাজ করতে সক্ষম। স্যাম অল্টম্যান বলেন, ‘আমার ধারণা, এটিই হবে প্রথম কোনো মডেল যা কার্যকরভাবে নতুন কিছু উদ্ভাবন করতে পারবে। এটি এজিআইয়ের মতোই একটি বৈশিষ্ট্য।’
তবে এই অগ্রগতির মধ্যেই পরীক্ষা চালানোর সময় বড় ধরনের নিরাপত্তা লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। গত জুলাইয়ের শেষে একটি নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে অপ্রকাশিত একটি মডেলের সাইবার নিরাপত্তা পরীক্ষা চলছিল। কিন্তু মডেলটি সেই নিরাপত্তা প্রাচীর ভেঙে স্বয়ংক্রিয়ভাবে ইন্টারনেটে যুক্ত হয় এবং এআই ডেভেলপারদের প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। সেখানে নিজের মূল্যায়নের পরীক্ষার প্রশ্ন ও উত্তর সংগ্রহ করে নেয় মডেলটি, যা একপ্রকার পরীক্ষায় প্রতারণা করার শামিল। এমনকি নিরাপত্তা সীমানা ভাঙার পর একটি গোপন মেসেজ বোর্ডের মাধ্যমে অন্যান্য মডেলের কাছে বার্তাও পাঠায় এটি।
এই ঘটনার পর বড় ধরনের এআই প্রশিক্ষণ সাময়িকভাবে স্থগিত করে অভ্যন্তরীণ নজরদারি জোরদার করেছে ওপেনএআই। প্রধান বিজ্ঞানী ইয়াকুব পাচোকি স্বীকার করেছেন যে নিরাপত্তা বলয় পুরোপুরি কার্যকর না করায় এমন ঘটনা ঘটেছে। তিনি বলেন, ‘এআইয়ের ক্ষেত্রে অপ্রত্যাশিত সবকিছুর জন্যই প্রস্তুত থাকা উচিত।’ অন্যদিকে স্যাম অল্টম্যান বলেন, ‘এ ধরনের নিরাপত্তাজনিত কোনো ব্যর্থতা সামনে এলে সেটিকে বড় বিষয় হিসেবেই দেখা উচিত।’
এদিকে এআই প্রযুক্তির বাজারে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিকের কাছে কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে ওপেনএআই। অ্যানথ্রোপিকের বার্ষিক আয় যেখানে ৬ হাজার ৫০০ কোটি ডলার, সেখানে ওপেনএআইয়ের আয় প্রায় ৪ হাজার কোটি ডলার। অল্টম্যানও স্বীকার করেছেন যে কিছু জায়গায় তাদের ভুল পদক্ষেপ ছিল। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চ্যাটজিপিটির সঙ্গে কোডেক্স প্রযুক্তি যুক্ত করে চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া ২০২৭ সালের মধ্যে এআইভিত্তিক ডিভাইস, নিজস্ব চিপ হালাপেনো এবং হিউম্যানয়েড রোবট তৈরির পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।





