বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়, দিনভর পার্লামেন্টের মূল ফটকের বাইরে অবস্থান নেন বিক্ষোভকারীরা। সন্ধ্যার পর কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশের দিকে বিভিন্ন বস্তু ছুড়ে মারলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করার চেষ্টা করে। এ সময় একটি পুলিশ ফাঁড়ি ও মোটরসাইকেলে আগুন দেয়া হয় এবং সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হন। জাকার্তা ছাড়াও ইওগিয়াকার্তা ও মাকাসার শহরেও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা।
বিক্ষোভকারীদের অন্যতম প্রধান দাবি হলো ২০০৮ সাল থেকে পার্লামেন্টে আটকে থাকা সম্পদ বাজেয়াপ্তকরণ বিল অবিলম্বে পাস করা। এই আইনের মাধ্যমে রাষ্ট্র দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার ক্ষমতা পাবে। বিক্ষোভকারীদের কেউ কেউ দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের দাবিও জানান। ইউনাইটেড পতি কমিউনিটি অ্যালায়েন্সের নেতা সোপ্রিয়ানো জানান, কয়েকজন আইনপ্রণেতা বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দেখা করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে আগামী ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বিলটি পাস না হলে তারা পদত্যাগ করবেন।
বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২০০ শিক্ষার্থী এই বিক্ষোভে অংশ নেন। তারা দুর্নীতির অভিযোগ ও ঘন ঘন খাদ্য বিষক্রিয়ার কারণে সরকারি বিনামূল্যের স্কুল মিল কর্মসূচি বাতিল, নিত্যপণ্যের দাম কমানো এবং সমাজে সামরিকীকরণের অবসান দাবি করেন। গত বছর সরকারবিরোধী বিক্ষোভ থেকে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতায় অন্তত ১০ জন নিহত ও প্রায় ৭ হাজার মানুষ গ্রেপ্তার হওয়ার ঘটনার বর্ষপূর্তির দিনে এই সমাবেশের ডাক দেয়া হয়।
বিক্ষোভ ঘিরে রাজধানী জাকার্তায় প্রায় ১৮ হাজার ৫০০ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছিল। সহিংসতা উসকে দেয়ার আশঙ্কায় আগেই ৬৫ জনকে আটক করে পুলিশ। দেশটির প্রধান নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী জামারি চানিয়াগো জানান, মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বাধা দেয়া তাদের উদ্দেশ্য নয়। তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের পাহারা দিয়ে নিয়ে যাব, যাতে তাদের দাবিগুলো সঠিকভাবে পৌঁছানো যায়।’





