হিমালয় কন্যা নেপালের নয়াভিয়াম প্রাকৃতিক দৃশ্যের খ্যাতি যেমন ভুবন জোড়া, তেমনি ভৌগলিক অবস্থানের কারণে প্রায় প্রতিবছরই প্রলয়ঙ্করী দুর্যোগ আঘাত হানে দেশটিতে।
গেল বুধবার সকালে আকস্মিক পাহাড়ি ঢল বা হড়পা বানে ভয়াবহ বিপর্যয় নেমে এসেছে দক্ষিণ এশিয়ার এই পাহাড়ি ভূখণ্ডে। ঘণ্টায় ঘণ্টায় বাড়ছে প্রাণহানি আর নিখোঁজের সংখ্যা।
বলা হচ্ছে স্মরণকালের ভয়াবহ মানবিক দুর্যোগের কবলে নেপাল। কিন্তু অতীত ঘাটলে দেখা যায় এটাই প্রথম নয়, বছরের পর বছর ধরে এমন দুর্যোগ বারবার ফিরে এসেছে নেপালে। গেল শতাব্দীর ভয়ংকর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ইতিহাস বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ভূমিকম্পেই সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয়েছে নেপাল।
আরও পড়ুন:
১৯৩৪ সালে ৭.৬ থেকে ৮.৩ মাত্রার ভূমিকম্পে কেঁপে ওঠে নেপাল ও ভারতের বিহার রাজ্য। প্রাণহানি হয় সাড়ে ৮ হাজার মানুষের। এরপর ১৯৯৩ সালের কুলেখানি জলাধার ও পাহাড়ি অঞ্চলে মেঘভাঙা বৃষ্টির পর প্রবল বন্যায় প্রাণ যায় হাজারেরও বেশি মানুষের।
প্রলয়ঙ্করী ভূমিকম্পের শীর্ষে আছে ২০১৫ সালের গোর্খা ভূমিকম্প। ৭.৮ মাত্রার ভয়াবহ ভূমিকম্পে কেন্দ্রস্থল গোর্খা জেলাসহ কাঠমান্ডুতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। বহু ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও নিদর্শন ধসে যাওয়ার পাশাপাশি মৃত্যু হয় প্রায় ৯ হাজার মানুষের। সবশেষ ২০২৪ ও ২০২৫ সালে ভারী বর্ষণের ফলে সৃষ্ট হঠাৎ বন্যা ও পাহাড় ধসে আড়াইশো'র বেশি মানুষের মৃত্যু হয়, ধসে যায় বহু ঘরবাড়ি, ব্রিজ ও অবকাঠামো।
গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, গেল ১৫ বছরে বিভিন্ন দুর্যোগে নেপালে প্রাণহানি হয়েছে সাড়ে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষের। বিশ্লেষকরা বলছেন, নবীন ও ভঙ্গুর পাহাড়, টেকনিক প্লেটের সক্রিয়তা, নদীর গতিপথ আটকে যাওয়াসহ আরও বেশ কিছু কারণে নেপাল এতটা দুর্যোগ প্রবণ। হিমালয় বিশ্বের অন্যতম নবীন পর্বতমালা। এর মাটি-শিলা অত্যন্ত নরম ও আলগা হওয়ায় সামান্য কারণেই এখানে ভূমিধস হয়। আর, ভারত ও ইউরেশীয় টেকনিক প্লেটের সংঘর্ষের ফলে এই এলাকা ভূতাত্ত্বিকভাবেও অত্যন্ত সংবেদনশীল। প্রায়ই ছোট-বড় ভূকম্পন পাহাড়ি ঢালকে দুর্বল করে দেয়।




