১০ মাস ধরে সবকিছু থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে আছেন, পড়তে পারছেন না খবরের কাগজ, নেই টেলিভিশন দেখার সুযোগ। ভয় পাচ্ছেন, নিজের পরিণতি হবে মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মোরসির মতো, যিনি আদালতে শুনানির সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান। এভাবেই পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী কারাবন্দী ইমরান খানের মানসিক অবস্থার বর্ণনা দিয়েছেন বোন উজমা খান।
কিন্তু হাল ছাড়তে রাজি নন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী। নিঃসঙ্গ কারাগার আর সরকারের জুলুমে অতিষ্ঠ হয়ে নিজের মুক্তির আন্দোলন দ্রুত শুরু এবং জোরদার করতে বলেছেন ইমরান খান। খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদিকে দিয়েছেন আন্দোলন সংগঠন ও সমন্বয়ের দায়িত্ব। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর পূর্ণাঙ্গ প্রতিবাদ কর্মসূচি নিয়ে মাঠে নামবে পিটিআই-এর নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট।
এছাড়াও, ইমরান খানকে শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের বদলে সরকারি মেডিকেলে রাখায় শেহবাজ শরীফের প্রশাসনের বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনেছে পিটিআই। শুক্রবার পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার জানান, ইসলামাবাদের ঐ বেসরকারি ক্লিনিকের পরিবর্তে ইমরানকে সরকারি চিকিৎসাকেন্দ্র, পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস বা পিআইএমএস -এ নিয়ে রাখা হয়েছে।
এর আগে, গেল ১৮ আগস্ট স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ইমরানকে আদিয়ালা কারাগার থেকে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছিল পাকিস্তানের সর্বোচ্চ আদালত। এই নির্দেশ প্রত্যাহারে সরকার আপিল করলে সেটাও ফিরিয়ে দেয় সুপ্রিম কোর্ট। এরপর গতকাল ইমরানকে অল্প সময়ের জন্য শিফা হাসপাতালে আনা হয়, এর কয়েক ঘণ্টা পরেই ফিরিয়ে নেয়া হয় আদিয়ালা কারাগারে।
পিটিআইর অভিযোগ, বৃহস্পতিবার শিফা হাসপাতালে মাত্র কয়েক ঘণ্টার স্বাস্থ্যপরীক্ষার পরই ইমরান খানকে ফিটনেস সার্টিফিকেট ধরিয়ে দেয়া হয়। আবার ভোরের আগেই নিয়ে যাওয়া হয় জেলে। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্যের ব্যাপারে এত লুকোচুরি অনেক প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।
কারাবন্দী ইমরানের স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যাপারে শেহবাজ শরীফ প্রশাসনের বেশ কিছু পদক্ষেপ রহস্যজনক। সাবেক প্রধানমন্ত্রীর চোখের পরীক্ষা রাজধানীর শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের চিকিৎসকরা করলেও অন্যান্য পরীক্ষা করছেন পাকিস্তান ইনস্টিটিউট অফ মেডিকেল সায়েন্সেস এর বিশেষজ্ঞরা। এখানে একটি বিষয় স্পষ্ট হচ্ছে না, শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালের বদলে ইমরানকে সরকারি মেডিকেল ইনস্টিটিউটে রাখার কারণ কী।





