চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ সংঘর্ষের পুনরাবৃত্তি, বাড়ছে নিরাপত্তা উদ্বেগ

চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম বন্দর | ছবি: এখন টিভি
0

চট্টগ্রাম বন্দরের চ্যানেল ও বহির্নোঙরে চলতি মাসে একাধিক বাণিজ্যিক জাহাজের সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে ব্যবহারকারীদের মধ্যে। কেন ঘটছে ঘন ঘন দুর্ঘটনা- এ নিয়ে রয়েছে নানা ব্যাখ্যা। সতর্কতামূলক পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে বড় কোনো দুর্ঘটনায় বন্দর চ্যানেল অচল হতে পারে বলে শঙ্কা নৌ-বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের।

নাব্য কম থাকায় ১০ মিটারের চেয়ে বেশি ড্রাফটের জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরের জেটিতে ভিড়তে পারে না। খাদ্যশস্য, ভোজ্যতেল, সার, কয়লা, পাথরসহ ৬০ শতাংশ আমদানি পণ্য বহির্নোঙরে ছোট জাহাজের মাধ্যমে খালাস হয়, আর পণ্য নিয়ে অপেক্ষায় থাকে শতাধিক জাহাজ। চলতি মাসে বহির্নোঙরে একের পর এক জাহাজের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় উদ্বেগ বেড়েছে।

গত ১৪ আগস্ট ডিজেলবাহী ট্যাংকার সি স্পাইক আলফা অ্যাংকরেজে নোঙর করার সময় কার্গো জাহাজ এম ভি সানশাইনকে ধাক্কা দেয়। এতে কার্গোটির ইঞ্জিন রুমে ফাটল ধরে। পানি ঢুকে বন্ধ হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ। দুদিনের মাথায় এমভি আনাসসা নামের আরেকটি কার্গো জাহাজ নোঙ্গর করা এমভি জাহানকে ধাক্কা দেয়। এর কয়েক দিন আগে বন্দর চ্যানেলের কর্ণফুলীর মোহনায় স্টিয়ারিং বিকল হয়ে রিটেইনিং ওয়ালে আটকে যায় একটি কনটেইনার জাহাজ। এসব দুর্ঘটনায় বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে রক্ষা পেলেও বন্দরে চ্যানেল অচল হওয়ার শঙ্কা ছিলো।

নৌ-বাণিজ্য সংশ্লিষ্টদের মতে, বন্দরের বহির্নোঙরে বর্ষায় বৈরী আবহাওয়ায় প্রচণ্ড স্রোত ও বাতাসের গতিবেগ সামলে- জাহাজ চালাতে বা নোঙর করতে হয়। অনভিজ্ঞ ও নতুন মাস্টারদের জন্য যা বেশ কঠিন। যদিও সাম্প্রতিক দুর্ঘটনায় বহির্নোঙরে হোল্ডিং গ্রাউন্ডে প্রচুর পলি জমে কাদামাটি নরম হওয়া, আলফা অ্যাংকরেজে অতিরিক্ত জাহাজের অবস্থান ও জেলেদের পেতে রাখা জালকে দুষছেন তারা। আর দুর্ঘটনা এড়াতে চ্যানেলের বর্জ্য পরিষ্কারের পাশাপাশি দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের আহ্বান বন্দর ব্যবহারকারীদের।

এম এস সি শিপিংয়ের হেড অব অপারেশন অ্যান্ড লজিস্টিক মো. আজমীর হোসেন চৌধুরী বলেন, আমাদের চিটাগং আউটার অ্যাংকরেজটা আসলে দিন দিন খুবই রিস্কি হয়ে যাচ্ছে। জাহাজের ঘনত্বটা কিন্তু অনেক বেড়ে যাচ্ছে। যেখানে কোস্টাল জাহাজগুলো দেখা যাচ্ছে ওই দিকটায় রাখছে। ফিশিং নেটগুলো দেখা যাচ্ছে যে যত্রতত্র ফিশারম্যানরা গিয়ে ফিশিং করছে। এটার কারণে জাহাজের প্রোপেলারে লেগে দেখা যাচ্ছে যে জালগুলো আটকে যাচ্ছে।’

বাংলাদেশ শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক পরিচালক খায়রুল আলম সুজন, ‘বিভিন্ন অ্যাঙ্কর কিংবা জাহাজের অনেক ভারী বর্জ্য বা বিভিন্ন ধরনের জিনিস যদি পড়ে থাকে, সেগুলো এখান থেকে যদি উদ্ধার করে যদি পরিষ্কার করা যায়, তাহলে কিন্তু জাহাজগুলো অ্যাঙ্কর করার সময় যে একটা দুর্ঘটনা বা অ্যাঙ্করটাকে সঠিকভাবে সে পদস্থাপন করতে না পারার যে একটা দুর্ভাবনা, তার থেকে তারা জাহাজগুলো অন্তত মুক্তি পাবে।’

বন্দর কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি এসব দুর্ঘটনায় পর তদন্ত কমিটি গঠন করেছে নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরও। বর্ষায় সাগর উত্তালের কারণে জাহাজের মাস্টার ও টিমকে সতর্ক থাকতে হয়। ভুল, অসতর্কতা এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় পরিকল্পনা না থাকাই এসব সংঘর্ষের অন্যতম কারণ বলে মনে করেন- প্রতিষ্ঠানটির মুখ্য কর্মকর্তা।

নৌ-বাণিজ্য অধিদপ্তরের মুখ্য কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শেখ মো. জালাল উদ্দিন গাজী বলেন, ‘যারা নতুন আসেন ক্যাপ্টেন বলেন নেভিগেটর, তাদের জন্য এটা একটু অবশ্যই ডিফিকাল্ট। এজন্য এখানে ভালো পরিকল্পনার দরকার এবং পূর্বপ্রস্তুতি দরকার এবং লোকাল নলেজ দরকার।’

ক্যামেরায় কথা না বললেও বন্দর কর্মকর্তারা জানান, দুর্ঘটনা এড়াতে নজরদারির পাশাপাশি জাহাজের মাস্টার এবং পাইলটদের সতর্কভাবে জাহাজ চালাতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

জেআর